সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৫১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্লাশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। ৩০ টি প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকের পদ খালি পরে আছে। এতে পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষকরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের পর উপজেলার কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। সহকারী শিক্ষক পদ থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জটিলতা গত কয়েক বছরে নিরসন না হওয়ায় এবং শূন্য পদে নতুন করে প্রধান শিক্ষক পদে লোক নিয়োগ না হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকটি বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা।
উপজেলার দেওয়ান পাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিক জানান, তাঁর ছেলে নগর রায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বলেন প্রধান শিক্ষক না থাকায় এবং স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান গতিশীল করা উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলার কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অফিসের নথিপত্র সংরক্ষণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রস্তুত, হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই একজন শিক্ষকের মূল দায়িত্ব; কিন্তু প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক সময় সেই দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শুক্লা মন্ডলের সাথে। তিনি সহ মোট তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের কাজকর্ম। এর মধ্যে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন। এতে তিনি অফিসিয়াল কাজে উপজেলায় গেলে বা অন্য কেউ ছুটিতে থাকলে মাত্র দুজন মিলে শ্রেনী কার্যক্রম চালাতে হয়।
নগর রায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী জানান, ম্যাডাম উপজেলায় গেলে কিংবা অসুস্থ জনীত কারণে একজন ছুটিতে থাকলে তখন আমাদের দুটি ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীকে একটা ক্লাসে এনে পাঠদান করানো হয় এতে পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে।
তিনি জানান, নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক সব দায়িত্বও তাঁকেই সামলাতে হয়। দ্রুত একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাকলি জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণী কার্যক্রম সঠিক ভাবে পরিচালনা করা যায় না এতে অভিভাবকদের অভিযোগ শুনতে হয়। আরেক শিক্ষক সীমা মন্ডল জানান, একজনের পাঠদান আরেক জন করলে সেটা সঠিক কিভাবে হবে। বিদ্যালয়ে আরও শিক্ষক প্রয়োজন।
প্রধান শিক্ষক-সংকটের পেছনে মামলা-জটিলতাও একটি কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান খান বলেন, রেজিস্টার্ড থেকে সরকারি হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদমর্যাদা-সংক্রান্ত একটি মামলা এখনো বিচারাধীন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পদায়নের বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া রেজিষ্ট্রেশনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২০১৩ সাল থেকে নিয়োগ হওয়ায় অনেক শিক্ষক জুনিয়র হিসেবে বিবেচিত হওয়া।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান খান বলেন, মামলা জটিলতার কারণে সারাদেশেই প্রধান শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। রেজিষ্ট্রেশনকৃত স্কুলগুলো সরকারি হওয়ায় সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটি কতৃক নিয়োগ ছিল এগুলো জেলা কমিটি থেকে অনুমোদন হয়নি কিন্তু তারা লিখতো প্রধান শিক্ষক। সম্প্রতি কিছু কিছু জেলায় ননক্যাডার থেকে ১-২ জন প্রধান শিক্ষক দেওয়া হলেও ঘাটতি পূরন হচ্ছে না কারণ অনেকেই রিটায়ার্ডে যাচ্ছে আবার মারা যাওয়ার ঘটনাও আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন