সোহেল রানা : ‘আমার স্বামী কোনো রাজনীতি করতো না। সে ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতো। সে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কোটা আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই সকালে সে তার কর্মস্থল হোটেলে যাওয়ার সময় গুলি খেয়ে মারা যায়। আমার নিরপরাধ স্বামীকে তারা মেরে ফেলেছে। এ সরকারের কাছে আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’ আমি হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চাই।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আবদুল গণির (৪৫) স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, আমার স্বামীর নামে গোয়ালন্দ মোড় চত্বর ঘোষণা, বাড়ীর সড়ক পাকাকরণ ও নামকরণ, কবর পাকাকরণ, ছেলের সরকারী চাকুরীর দাবী জানান।
শহীদ গণির স্ত্রী লাকি আক্তার বলেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। আল্লাহ দেখছে আমার নির্দোষ, নিরপরাধ স্বামীকে তারা হত্যা করেছে। আমার সন্তানদের এতিম করেছে, আমাকে করেছে স্বামীহারা। আল্লাহ তাদের বিচার করেছে। এমনভাবে বিচার করেছে ভয়ে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখন আমার একটাই দাবি আমার স্বামী হত্যার বিচার করতে হবে। তাহলে তার আত্মা শান্তি পাবে।
এ সময় সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আমি দুটি সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। এ সরকারের কাছে আমি আর্থিক সহযোগিতা চাই। আর সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলেকে যেন একটি চাকরি দেওয়া হয়। আমার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি অ্যাড. মোঃ আসলাম মিয়া। তিনি স্বামীর কুলখানী থেকে শুরু করে অনেক কিছু করেছেন আমার পরিবারের জন্য। এখনই সব সময় খোঁজখবর সহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। আমার মেয়ের জন্মদিন পালন, ঈদ উপহার দিয়েছেন। কোন প্রয়োজন হলে তাকে অবগত করতে বলেছেন। এছাড়াও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সহায়তা দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জুলাই ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা পেয়েছি। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন থেকে ঈদের উপহার, আমাকে সেলাই মেশিন প্রদান, স্বামীর স্বপ্নের বাড়ী নির্মাণ কাজের অসমাপ্ত কাজে ৩লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন। আমি এখনো প্রায় ২লক্ষ টাকা দেনাগ্রস্থ, বাড়ীর আরও কিছু কাজ বাঁকী রয়েছে। ছেলের একটি সরকারী চাকুরী হলে পরিবার নিয়ে দু’মুঠো খেয়ে বাঁচতে পারতাম। ছোট মেয়ে সব সময় ওর বাবার জন্য কাঁদে। কখন বাবা আসবে। ছেলে আলামিন শেখকে তার বাবার কর্মস্থলে চাকুরী দিয়েছে। তার বেতন কম। ভালো কিছু তার জন্য ব্যবস্থা করার দাবী জানাচ্ছি। ছয় বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন গণির স্ত্রী লাকি আক্তার।
জানা গেছে, আব্দুল গণি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে। ঢাকার গুলশানে-২ সিক্সসিজন নামক আবাসিক হোটেলের কারিগরি বিভাগে কাজ করতেন আবদুল গণি। গত ১৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে তার গোপীবাগ উত্তর বাড্ডার বাসা থেকে বের হয়ে গুলশান ৬ নম্বর রোডে তার কর্মস্থল আবাসিক হোটেলে যাচ্ছিলেন। পথে হোটেলের মাঝামাঝি স্থানের গুলশান শাহজাদপুর বাঁশতলায় কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে পড়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। গত ২১ জুলাই বিকেলে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী সদরের খানখানাপুর আনা হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারিয়া হক বলেন, গত ১৯ জুলাই ঢাকায় কোটা আন্দোলনে শহীদ আব্দুল গণি নিহত হন। পরিবারটির পাশে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সব সময় আছে। তাদের সার্বিক খোঁজখবর ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। তার বাড়ী নির্মাণে জেলা প্রশাসন থেকে ৩লক্ষ টাকা, সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে। গত ঈদের সময় ঈদ উপহার প্রদান করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন