সোহেল রানা : কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ঢাকা বাংলা কলেজের ছাত্র শহীদ সাগর আহম্মেদের বাবা মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন বলেছেন, পৃথিবীতে ছেলে হত্যাকারীর সুষ্টু বিচার না হলে আল্লাহর কাছে সুষ্টু বিচার দিলাম। তার কত স্বপ্ন ছিল গুলিতে সব শেষ হয়েছে। এখন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কি করবো বুজতে পারছি না। এখন ছেলের ছবি দেখে সময় কাটাতে হচ্ছে। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন।
কোটা আন্দোলনে নিহত সাগরের বাবা বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তখন ভয়ে কথা বলতে পারিনি। ছেলে হত্যার পর থেকেই আমি নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। আল্লাহকে বলেছি, আল্লাহ তুমি দেশবাসীকে এ জালিম সরকারের হাত থেকে রক্ষা করো। জালিম সরকারের পতন ঘটাও। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন।
এসময় তিনি বর্তমান অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশেই সাগরসহ শত-শত ছেলে-মেয়েকে এই আন্দোলনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সাগরের বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘মাঠে কাজ করা দেখে সাগর প্রায়ই বলত-বাবা, আর ক’টা দিন অপেক্ষা করো। তোমাকে আমি আর রোদে পুড়তে দেব না। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। কেউ কখনও এমন করে আর বলবে না। আমার ছেলে কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আমি মাঠে কাজ করে খাই। আমিও কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাই।
নিহত সাগরের বাবা মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সাগর অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ মিরপুর বাংলা কলেজে ভর্তি হয়। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে আমি তার পড়ার খরচ ঠিকমতো দিতে পারতাম না বলে সে টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালাতো। সাগরের স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হবে, সরকারি চাকরি করবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই চাকরির জন্য কোটা আন্দোলনে গিয়েছিল, ফিরল লাশ হয়ে। আমি শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম যারা সাগরকে হত্যা করেছে তাদের যেন বিচার হয়। আল্লাহ আমার কথা শুনেছে। এই জালিম সরকারের পতন ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের কবর পাকাকরণ, বালিয়াকান্দি মডেল মসজিদের নাম শহীদ সাগরের নামে নামকরণ, কবরস্থানের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ ও সড়কের নামকরণ দাবী করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জুলাই ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন মেয়ের একটি সরকারী চাকুরীর দাবী জানাই।
সাগরের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাগর তার বাবাকে ফোন করেন। সবার খোঁজ খবর নিয়ে বিকাশে ১ হাজার টাকা দিতে বলেন। স্থানীয় নারুয়া বাজারে গিয়ে আধাঘণ্টা পর টাকা দেন তোফাজ্জল। পেয়েছেন কিনা নিশ্চিত হতে কল দেন; কিন্তু রিসিভ হয় না। কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ ঢাকায় যে গণ্ডগোল চলছে, জানেন তোফাজ্জল। দুপুর ১টার পর কল দিতেই থাকেন। মিনিট দশেক পর একবার রিসিভ হলে অপর প্রান্ত থেকে কেউ একজন বলেন, সাগর পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। তোফাজ্জল নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আরও কয়েকবার কল দেন, রিসিভ হয় না। শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে চলে ঘামের স্রোত। পরিচিত অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যতক্ষণে নির্মম সত্য জানলেন, ততক্ষণে সব শেষ! আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবী জানাচ্ছি।
জানাগেছে, গত ১৯ জুলাই ঢাকা মীরপুর ১০ গোল চত্বর থেকে সাগর মাথায় গুলিবৃদ্ধ হয়ে নিহত হন। সাগর নারুয়ার বিলটাকাপুড়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জেম হোসেনের ছেলে। সে মীরপুর সরকারী বাংলা কলেজের রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন