গোয়ালন্দের ৫ কৃতি শিক্ষার্থী আপন আলোয় উদ্ভাসিত

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সার্বিক ফলাফল হতাশাজনক হলেও এসএসসি ২০২৬ এর ফলাফলে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে আলো ছড়িয়েছেন গোয়ালন্দের তিনটি স্কুলের ৫ কৃতি শিক্ষার্থী। তাদেট এই কৃতিত্বে পরিবার, শিক্ষক ও গোটা এলাকাজুড়ে বইছে আনন্দ আর গর্বের আবহ।
গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যলয় থেকে দুজন, দেওয়ান পাড়া রহমত উল্লাহ কিন্ডারগার্টেন থেকে দুজন এবং লোটাস কলেজিয়েট স্কুলের ১ জন।
গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথৈই বাবা আজাদ বেপারী ব্যাবসা করেন আর মা চাকরি করেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। তারপর ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছেন এবারের পরীক্ষায় স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার। অথৈই বলেন, যেহেতু আমি অংক এবং পদার্থ বিষয়ে ভালো বুঝি তাই ভবিষ্যতে ইন্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। পড়াশোনার ব্যাপারে বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করতে হবে। যারা সামনে পরীক্ষা দিবে তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, পড়াশোনা নিয়মিত করতে হবে। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করতে না পারলেই সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই কতো সময় পড়াশোনা করলাম তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করে দেওয়া এটা জমিয়ে রাখা যাবে না।
গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের আরেক কৃতী শিক্ষার্থী সানজিনা ইসলাম। বাবা রফিকুল ইসলাম সালু প্রবাসে থাকেন। সানজিনা বলেন আমি বছরের শুরু থেকেই আমি ভালো একটা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এবং মানসিক ভাবে ভালো ফলাফল করতেই হবে এরকম একটা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমাদের সিলেবাস প্রথমে কোন গ্রুপ ছিল না কিন্তু দশম শ্রেণিতে উঠার পরপর সাইন্স, আর্টস ও কমার্স ভাগ করা হলে আমি বিজ্ঞান বিভাগ নেই। ভালো ফলাফল করতে চাইলে মাইন্ড সেটাপ যেমন প্রয়োজন তমনি নিয়মিত পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। একদিনের কাজ আরেকদিনের জন্য ফেলে রাখলে কাজ হবে না। নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। যারা সামনে পরীক্ষা দিবে তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, কতো ঘন্টা পড়াশোনা করলাম তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বুঝে পড়তে হবে এবং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।
গোয়ালন্দ লোটাস কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী সোহাগ মোল্লা, বাড়ি পৌর চার নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লার পাড়া বাবা আবুল কালাম আজাদ মোল্লা প্রবাসী। মায়ের তত্বাবধানে থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এই শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগের বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন পড়াশোনায় সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত পড়াশোনা করা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কালাম পড়ার পাশাপাশি পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী এই শিক্ষার্থী। তাছাড়া নিয়মিত পড়াশোনার কথা বলেন। নতুন পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে এবং অবশ্যই মনোযোগ ঠিক রাখতে হবে। তার বললেন তিনি ছেলের ব্যাপারে যথেষ্ট যত্ন নেন অযথা কোথাও সময় নষ্ট করতে দেন না। সোহাগ মোল্লা ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হতে চান।
গোয়ালন্দ দেওয়ান পাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী সাবা তাবাসসুম। অত্যন্ত ধার্মিক এবং রুটিন মাফিক এই শিক্ষার্থী জানালেন স্কুলে থাকতে হয় সকাল থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম ও খেলাধুলা শেষে সন্ধ্যায় পড়তে বসে একটানা দশটা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। এরপর নামাজ ও খাওয়া দাওয়া শেষে নিয়মিত এগারোটায় ঘুমিয়ে আবার ফজরের আজানের সময় জেগে নামাজ পড়া তার নিয়মিত অভ্যাস কখনো ভোরে উঠতে না পাড়লে বাবা আবু সাইদ রাজু তিনি এব্যাপারে তিনি সতর্ক থাকেন। ভবিষ্যতে সাবা তাবাসসুম একজন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চান।
গোয়ালন্দ দেওয়ান পাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের আরেক শিক্ষার্থী মাহফুজ হাসান কাব্য এবারের এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। তার বাবা মোস্তফা কামাল ফরিদপুর ময়জদ্দিন হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। ইচ্ছে থাকলে উপায় এটা তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নবম শ্রেণিতে দূর্ঘটনায় আহত হয়ে পাঁচ মাস পড়াশোনার বাইরে থাকতে হয়েছে। এরপর পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হন। প্রি-টেস্টে ৩.৭৫ তার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। টেষ্ট পরীক্ষায় ৪.০৫ সেই আগ্রহ আরেকটু বাড়িয়ে দেয় পরবর্তী তিন চার মাস পড়াশোনায় গভীর মনোযোগ সহকারে লেগে থাকা। কঠোর পরিশ্রম শিক্ষকদের পড়ার প্রতি গভীর মনোযোগ শেষ করার প্রবল আগ্রহ সবকিছু মিলেই তাট আজকের ফলাফল। ভবিষ্যতে এই কৃতি শিক্ষার্থী চিকিৎসক হতে চান।