সিরাজুল ইসলাম : সোনালী আশের ঐতিহ্য ফিরিছে পদ্মা পাড়ের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার। পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারে নতুন পাট ওঠার শুরুতেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দাম মেলায় চাষিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি নানামুখী উদ্যোগ ও পরিবেশ রক্ষায় পাটের ব্যবহার বাড়ায় দীর্ঘ বছর পর সোনালি আঁশের সেই পুরনো ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ দেশি পাট ৩ হাজার ৭ শত টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে পাট। মরা পদ্মায় জাগ দেওয়া পাটে আলাদা রকম রঙ হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের পাটের আলাদা চাহিদা রয়েছে সারা বাংলাদেশে। বর্তমান উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার এলাকায় কৃষকেরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় বৃহত্তর রাজবাড়ী জেলা ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে গোয়ালন্দ উপজেলা ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানা পুর এলাকায় একসময় হাজার হাজার মণ পাট কেনাবেচা হতো। মাঝে পাটের দরপতন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে বর্তমানে সার, চিনি, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় বাজারে পাটের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে।
বুধবার সরেজমিনে গোয়ালন্দ বাজারে দেখা যায়, খুব সকালে ঘোড়ার গাড়ি করে পাট বাজারে এনে বিক্রি করে গরম গরম জিলাপির স্বাদ নিচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ এটা তাদের সংস্কৃতির অংশ। সকালে ঘোড়ার গাড়িতে পাট সাজানোর সময় শিশুরা জামা কাপড় পরে গাড়িতে চড়ার প্রস্তুতি নেয় এবং বড়দের সাথে পাটেট গাড়ির উপরে বড়দের সাথে হাটে আসবে এবং বিক্রি শেষে জিলাপি অথবা মিষ্টি নিয়ে বসবে। বাড়িতে মহিলারা অপেক্ষা করবে গরম গরম জিলাপি এবং অনেকেই নতুন জামা কাপড়ের। এটা তাদের একটা উৎসবের মতো। ভাদ্র মাসে কাজ থাকে না তখন পিঠাপুলি খাবে বৃষ্টিতে।
কথা হয় হাটে আসা রমিজ বেপারীর সাথে, তিনি জানান এবার পাঁচ বিঘা (৩৩ শতাংশ বিঘা) জমিতে পাটের চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো পাট হয়েছে। শুরুতে দাম ভালো ছিল মাঝে একটু ভাটা পড়লেও এখন আবার বাজার চড়া। দীর্ঘদিন পরে আবার সোনালী আশ আমাদের সোনালী সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। ৩৮৫০ টাকা করে মন বিক্রি করলাম। পাচ মন পাট বাজারে আনছিলাম সাথে দুই নাতি আইছে তাদের খাওয়ানো শেষে বাড়িতে পাচ কেজি জিলাপি নিতে হবে ছেলের বউ, নাতি, নাতনী আছে এবং মেয়ে আইছে তারও ছেলে মেয়ে আইছে এসময় আমাদের পরিবারের সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ফকির পাড়া গ্রামের কৃষক আলমাস মিয়া বলেন, ‘এবার ২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ। পাটের যে দাম পাচ্ছি, তাতে খরচ বাদ দিয়ে বেশ ভালো লাভ থাকবে। এমনকি পাটখড়ির দামও এখন বেশ ভালো।’
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে তোষা জাতের পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, “চলতি মৌসুমে গোয়ালন্দ উপজেলায় ৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম ছিল। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত ছিল। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত পানির মানও ভালো ছিল। ফলে কৃষকরা উন্নত মানের পাট উৎপাদন করতে পেরেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন