


স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই দেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান এ কমিটি গঠন করেন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রবিবার থেকে তদন্ত কমিটি তদন্ত শুরু করবেন।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ মোক্তার হোসেন খানকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সঞ্জীপন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জ্যোতিময় জ্যোতি এবং নুপুর পাল (ডিআরএস)।
সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গৃহবধু অশান্ত কুমার মন্ডলের স্ত্রী কনিকা রানী মন্ডলের। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত পরীক্ষা করে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই তার সিজার করা হয় এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তাকে সিসিইউতে রাখতে হবে। পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায়। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। অপারেশন করার সাথে সাথেই এদিক সেদিক ছোটাছোটা আর হায়হতাশ করতেছিলেন ওই চিকিৎসক। এমনকি সব কাজ সম্পন্ন না করেই বেরিয়ে যান তিনি। এ সময় তার পর্যাপ্ত পরিমানের রক্তক্ষরণ হতে থাকে। গত ৩ জুলাই তার পেটে ফুলে গেলে আবারো অসুস্থ্য হয়ে পড়লে নেওয়া হয় ঢাকায়। ভর্তি করা হয় ইবনে সিনা হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখাযায় পেটে গজ কাপড় রেখে করা হয়েছিল সেলাই। আবারো অপারেশন করে বের করা হয় সেই গজ কাপর। অবশেষে ৫৩ দিন পর ১৯ আগষ্ট মারা যান গৃহবধু কনিকা। এ ঘটনায় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার সকালে নিহত কনিকা মন্ডলের বাড়ীতে আসেন। তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। পরিবারকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন