প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ৫:৪২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৭, ২০২৬, ২:৩১ পি.এম
কচুরিপানায় আটকা কয়েকশো কৃষকের ভাগ্য

সিরাজুল ইসলাম : একসময় এখান দিয়ে ফেরি স্টিমার চলাচল করতো, বড় বড় নৌকা পাটসহ বিভিন্ন পন্য বোঝাই করে মালামাল বহন করতো। সময়ের পরিক্রমায় এখন মরা পদ্মা নামে পরিচিত। পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে কচুরিপানা। বছরের পর বছর নদীটি খনন না করায় সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নদীপাড়ের গ্রামের কয়েকশত কৃষক।
বহমান পদ্মা নদীর পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। মৃত প্রায় পদ্মা এখন শুষ্ক মৌসুমে বেশির ভাগ অংশে চাষ বাস হয়। বর্ষা মৌসুমে ঘন কচুরিপানায় ভরে যায় পুরো এলাকা। ফলে নদীর ঐ পারে যাদের কৃষি খামার রয়েছে তাদের পন্য আনতে ঘুরতে হয় বেশ কিছু এলাকা। নৌকায় এপার থেকে ওপারে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভব।
স্থানীয় চাষি শমসের মোল্লা ও আনোয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদী খননের আশ্বাস শুনলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে খেতের ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়, আবার বর্ষায় কচুরিপানার কারণে নৌকা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল শত শত জেলে পরিবারও এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মো. মেহেদী হাসান বলেন, "আমাদের অধিকাংশ কৃষিজমি নদীর ওপারে। নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় সব সময়ই কষ্ট করে ফসল আনতে হয়। এখন আবার পুরো নদী কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় নৌকা চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নৌকায় করেও ফসল আনতে পারছি না এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।" কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, "প্রতিবছরই একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফসল ঘরে তুলতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। অনেক সময় কচুরিপানার কারণে নৌকা আটকে যায়, তখন ফসল বাড়িতে আনতে পারি না। কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয়। পরে কচুরিপানা কিছুটা সরে গেলে বা নৌকা চলাচল স্বাভাবিক হলে তবেই ফসল বাড়িতে আনতে পারি।"
স্থানীয় বাসিন্দা কলম খান বলেন, "মরা পদ্মা নদীর অধিকাংশ অংশ কচুরিপানায় ভরে রয়েছে। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ এবং একটি সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকশ কৃষকের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।"
একই দাবি জানিয়ে আরও কয়েকজন কৃষক বলেন, "বর্ষা মৌসুমে আমাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কচুরিপানার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ এবং নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকশ কৃষকের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হব এবং নির্বিঘ্নে ফসল আনা-নেওয়া করতে পারব। বর্তমানে এই কচুরিপানার কারণেই আমরা সব সময় দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।"
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধা বলেন, "বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, উপজেলা পরিষদে আবেদন সাপেক্ষে কচুরিপানা অপসারণ করা হবে এবং একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে ওই স্থানের সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন হলে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন