স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল ও কলেজের বালিকা শিফটে বোরকা ও নিকাব পড়া ছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকদের কথাবার্তা নিয়ে কটূক্তি ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিষ্ঠানটিতে দুই শিফটে পাঠদান অনুষ্ঠিত হয়। সকালে বালিকা শিফট এবং বিকেলে বালক শিফটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে বোরকা পরা কয়েকজন ছাত্রীকে সামনে ডেকে তাদের নিকাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ সময় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়, সাদা নিকাব পরোনি কেন? কেউ নিকাব পাওয়া যায় না বলে জানালে তাকে নিকাব খুলতে বলা হয় এবং “নিকাব না খুললে তোমাদের চিনতে পারি না”এমন কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় আরও বলা হয়, “তোমরা যদি নিকাব না খুলতে পারো, তাহলে মাদ্রাসায় গিয়ে পড়। স্কুলে কেন পড়তে আসছ? ঘটনার সময় উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে সৈয়দ আলী মাস্টার, বিল্লাল মাস্টার, আয়ুব মাস্টার, শাকিল মাস্টার, মেহেদী মাস্টার ও হরিদাস মাস্টারসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন ছাত্রীর কাছ থেকে তাদের অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে বালিকা শিফটে ছাত্রীদের পোশাক ও নিকাব সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে যথাযথ নারী শিক্ষক বা শিক্ষিকার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা ছিল কি না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পোশাক ও ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে শিক্ষকদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
অভিভাবকদের আরও প্রশ্ন, ছাত্রীদের অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর কী কারণে নেওয়া হয়েছে এবং এসব নম্বর কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এ বিষয়টিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা শিক্ষকদের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো শিক্ষার্থী যেন তার পোশাক, নিকাব বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে অপমান, কটূক্তি, হয়রানি কিংবা বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল ও কলেজের কর্তৃপক্ষ, উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে তার পোশাক বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে অপমানিত হতে হবে না।
এ বিষয়ে জানতে নারুয়া লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ একেএম সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন