
স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে তানিয়া আক্তার (৪৩) নামের এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।
এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়াকে আরো পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে তাকে বড় সাজা হিসেবে ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি তানিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুরে আনেন।
পরে তাকে শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ অবস্থায় ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র্যাব-১০ ক্যাম্পে ফোন করে তাকে আটকে রাখার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ওই রাতেই র্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় তরুণীকে উদ্ধারের পর র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে ওই দিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় তানিয়াকে একমাত্র আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই প্রসাদ কুমার চাকী।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়াকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে দেশে মানবপাচারের প্রবণতা কমবে বলে আশা করছি।’
