
এস,এম হেলাল খন্দকার : একসময় তাঁতিদের হাতে তৈরি বস্ত্রশিল্পের জন্য সুপরিচিত ছিল রাজবাড়ী। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। কাঁচামালের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব এবং প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঐতিহ্যবাহী এই তাঁত শিল্প এখন চরম সংকটে। ফলে বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অসংখ্য কারিগররা।
স্থানীয়রা জানান, একসময় রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি, পাংশা, কালুখালী, রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার কারিগর দিনরাত তাঁত বুনে ব্যস্ত সময় পার করতেন। কালুখালীর চড়সিলুকা, কালিকাপুর, এবং পাংশা পৌরসভা, যশাই, মাছপাড়া ও সরিষা, রাজবাড়ী সদরের রামকান্তপুর, বেড়াডাঙ্গা, পাঁচুরিয়া, ভান্ডারিয়া, খানখানাপুর, গোয়ালন্দের উজানচর, ছোটভাকলা, বালিয়াকান্দির মৌকুড়ি, ভীমনগর, ইসলামপুরের বাড়াদী, সারুটিয়া, ভাতসালা, করমচাঁদপুর, খালকুলা, নতুননগর
সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁত শিল্পের সেই পুরোনো দিনের কর্মচাঞ্চল্য এখন আর নেই। বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে টিকে আছে মাত্র দুই শতাধিক তাঁতি পরিবার, যারা এখন মূলত লুঙ্গি ও গামছা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। একটি গামছা তৈরিতে খরচ পড়ে প্রায় ১০০ টাকা। অথচ বিক্রি হয় ১২০ টাকায় মাত্র ২০ টাকার জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হয়। আর যারা পরের কাপর বুনয়, চারটি লুঙ্গি বুনালে তারা মুজুরি পায় ১১০ টাকা আর ৩ টা বুনালে ৭৫ টাকা হয়। যে সুতার দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ছিল, তা এখন আড়াই হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পন্যের দাম কম হওয়ায় পারিবারিক ঐতিহ্যবাহি এ পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম নির্ধারন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্তরা।
বাড়াদী গ্রামের তাঁত শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত থাকা মোঃ শুকুর আলী, আব্দুস সালাম, ফজলুল হক, নাজিমুদ্দিন, নজরুল ইসলাম বলেন, এক সময় তাঁতের ঠক ঠক আওয়াজে মুখরিত ছিল এই গ্রাম। অন্ততঃ ৫০টি পরিবার পাল্লা দিয়ে তাঁত শিল্পের কাজ করতেন। তাঁত সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ শত থেকে ১ হাজার। এলাকার লোকজনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক এনে কাজ করতে হতো। সুতার দাম বেশি কাপড়ের দাম কম হওয়ায় পুজি হারাতে হারাতে এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর সেই শিল্পটি একেবারেই বিলিন হয়ে গেছে। বেকার তাঁত শিল্পীরা সংসারের চাপে বিভিন্ন কাজে মনোনিবেশ করেছেন। তবে সরকার একটু নজর দিলে এই শিল্পটি আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং এরসাথে সম্পৃক্ত সকলে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে।
সারুটিয়া গ্রামের আব্দুল মুন্নাফ মল্লিক, করমচাঁদপুর গ্রামের মোহন মল্লিক, নতুননগর গ্রামের আব্দুল করিম মল্লিক, বেড়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দু কাদের মল্লিক বলেন, আমরা পরিবারের সকলে মিলে আনন্দ নিয়ে কাজ করতাম। তখন কাপড় বিক্রি করে লাভবান হতাম। কাপড় তৈরির কাঁচামালসহ প্রতিটি সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধি পাওয়া আর উৎপাদিত কাপড়ের দাম কম হওয়ায় পুজি হারিয়ে শিল্পটাকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। তবে সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
একাধিক তাঁতিরা বলেন, এই এলাকায় এক সময় অনেক তাঁত ছিল বর্তমানে সুতার দাম বেশি কাপরের দাম হওয়ায় আমাদের অনেক লস হচ্ছে। অনেকে বাপ দাদার এ পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার যদি সহযোগিতা করতো তাহলে পেশা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
বিসিক রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক চয়ন বিশ্বাস জানান কুটির ক্ষুদ্র ও মাঝিরা ধরনের শিল্প উদ্যোগক্তাদের নিয়ে কাজ করে তাত শিল্প আমাদের ক্যাটাগরিতে পরে যায় আমরা বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা ও নকশা তাদের প্রদান করতে পারবো এ ছাড়া আমাদের বিসিক জেলা কার্যালয় থেকে লন সহযোগিতার ব্যবস্থা আছে কারো আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয় ডকুমেন্টস নিয়ে আমাদের কাছে ঋন সহায়তা পেতে পারে।
