
মাসুদ রেজা শিশির : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বাস্তেখোলা গ্রামে মৃত জালাল মন্ডলের মেয়ে জামেনা খাতুন মৃত পিতার সম্পদ বুঝে নিতে চাওয়ায় বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে জমি বুঝে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে বিনা অনুমতিতে বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এসময় জামেনা খাতুন ঘর থেকে বের হলে তাকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। জামেনা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার গলাই থাকা স্বর্নের চেন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। জামেনার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে জামিনাকে ফেলে রেখে তারা চলে যায় আক্রমণ কারীরা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জামিনাকে কালুখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়, জামেনার মাথায় ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে কাটা ফোলা যখন হয়েছে। এ ঘটনায় জামেনা খাতুনের মা মেহেরুন খাতুন বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলা দায়ের করেছে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায় বাস্তেখোলা গ্রামের জামেনা খাতুনের চাচাতো ভাই কমল খা, মিলন খা, জামাল খা পিতৃহীন অসহায় জামেলাকে মেরে জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামেনা খাতুন জানান তার বয়স যখন মাত্র এক বছর তখন তার বাবা মারা যান। তারপর থেকে জামেনা খাতুনের মা পরের বাড়িতে কাজ করে মেয়েকে বড় করার চেষ্টা করে চলেছেন।
জামেনা খাতুনের মা নিজে বিয়ে না করে শিশু কন্যা জামেনাকে নিয়ে জীবন পার করেছেন, জামেনা খাতুন যখন বুঝতে শিখেছে তখন থেকে চাচা- চাচাতো ভাইদের কাছে বাবার জমির অংশ ফিরে পেতে আকুতি মিনতি করায় প্রথমে তাকে নানা ভাবে হয়রানি নির্যাতন করা হয় পরবর্তীতে বাবার নামের তিন পাখি জমি জামেনা কে বুঝে দেয়া হয়, সেই তিন পাখি জমিতেই জামেনা তার মাকে সঙ্গে নিয়ে চাষাবাদ করে জীবন পার করছিল।
এরই মধ্যে জামেনা খাতুন কাগজপত্র তুলে জানতে পারে তার বাবার আরো ১০ থেকে ১২ পাখি জমি বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে সেই জমি বুঝে পেতে কথা বলায় চরমভাবে তাকে প্রহার করা হয়, যাতে ভয়ে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জামেনা খাতুনের মা মেহেরুন খাতুন বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলা করেছে। মামলা নং- ০৫ তাং ১০/০৯/২০২৬ ইং ধারা ৪৪৮/৩২৩/৩০৭/৩২৬/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬/১১৪। মামলা দায়ের করলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মামলার অভিযুক্তরা।
এদিকে মামলা করার কারণে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে তাদের বলেও জানান জামেনা। জামেনা ও তার মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে কালুখালী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে কালুখালী থানার এস আই ও মামলার তদন্তকারী অফিসার মো: জিয়াউল হক বলেন আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার পর থেকেই তারা গা ঢাকা দিয়েছে।
