রাজবাড়ীতে কৃষি উৎপাদন নিয়ে চিন্তিত কৃষক : ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে তৈরি হতে পারে বহুমুখী সংকট

লেখক:
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

স্টাফ রিপোর্টার : জ্বালানি তেলের বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাচ মাসে দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ফসল উৎপাদন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেছে রাজবাড়ীর হাজার হাজার কৃষক। তবে চলতি আমন মৌসুমে রাজবাড়ীতে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ।
সোমবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা বহুলাংশে জ্বালানি-নির্ভর হওয়ায় চাষাবাদ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ প্রতিটি পদক্ষেপে এর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে সেচ পাম্পগুলোর একটি বড় অংশই ডিজেল চালিত। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য কৃষকদের প্রচুর ডিজেল প্রয়োজন হয়। তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ সরাসরি বেড়ে যাবে, যা উৎপাদন ব্যয় বেরে যাবে।
কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর এবং ধান কাটার কম্বাইন হারভেস্টারের মতো আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ডিজেল দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে জমি চাষ থেকে শুরু করে ফসল মাড়াই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই খরচ বৃদ্ধি পাবে। মাঠ থেকে সংগৃহীত ফসল স্থানীয় বাজার বা দূরবর্তী পাইকারি আড়তে পৌঁছে দেওয়ার পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। এর ফলে একদিকে কৃষক সঠিক দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়েও কৃষি পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
কৃষক আব্বাস আলী বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার নতুন করে সোমবার থেকে তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকলে কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পরবে। আবার কৃষক যদি তার উৎপাদিৎ পন্য বাজারে নিয়ে সঠিক দাম না পায় তাহলে লোকসানে পরবে কৃষক। সরকারকে কৃষকের কথাও ভাবতে হবে। না হলে কৃষি উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে এই অঞ্চলের কৃষক।
কৃষক মুকুল শেখ বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার তুলনায় বাজারে উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য না পেলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক চাষাবাদে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বা বিকল্প আবাদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বাজারে সার, কীটনাশক ও বীজের দামেও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কৃষি খাতের সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে তা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় সেচ সাবসিডি বৃদ্ধি, বিশেষ কৃষি প্রণোদনা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উপকরণের বাজার তদারকি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জনি খান বলেন, রবি মৌসুমে সেচের চাহিদা বেশি থাকে। রবি মৌসুমে রাজবাড়ীতে পেয়াজ ও পাট ক্ষেতে বেশি সেচ ব্যাবহার হয়, তখন বেশি বেশি ডিজেল দরকার পরে। আর বর্তমান আমন মৌসুমে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। আমন ধানটা মূলত বৃষ্টি নির্ভর। বর্তমানে প্রতিটি ধানক্ষেতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। উৎপাদন খরচ কমাতে সৌর চালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যেহেতু ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাই এই অঞ্চলের কৃষকের কথা চিন্তা করে কৃষি প্রনোদনা বাড়ানোর জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অনুরোধ করা হবে।