সোহেল রানা : রাজবাড়ীর পাংশায় কাতার প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০) কে হাত, পা বেঁধে রেখে হত্যার অভিযোগে মিলন শেখ (২৭) নামে এক আসামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মিলন শেখ পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের ছেলে। নিহত রুনা খাতুন পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিসুর রহমানের স্ত্রী।
বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ ইউসুফ হোসেন এ রায় প্রদান করেন।
মামলা সুত্রে জানাগেছে, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ২ ছেলে মেয়ে নিয়ে রুনা খাতুন তার স্বামীর বাড়ীতে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত দেড় টার দিকে ছেলে হুসাইনের কান্নাকাটিতে মেয়ে সিনহার ঘুম ভেঙ্গে যায়। মিলনকে বসত ঘরের বিদ্যুতের আলোতে দেখে চিনিতে পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করে আমার মা কোথায়? তখন মিলন জানায় তোমার আম্মু আমাদের বাড়ীতে গেছে। সিনহা রুমের মধ্যে তার ছোট ভাইয়ের কান্না থামানোর চেষ্টা করে কিন্তু তার ছোট ভাই আরো বেশি কান্নাকাটি করতে থাকলে সে তার ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে তার মাকে ডাকাডাকি করতে করতে বারান্দায় আসে। মিলন সিনহার ভাগ্নির মুখ চেপে ধরে এবং বলে যে, চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলাইবো। সিনহা তার মুখ থেকে মিলনের হাত সরানোর চেষ্টার একপর্যায়ে মুখ ছেড়ে দেয়। মিলন সহ উঠানো দাড়ানো অজ্ঞাতনামা আরো ২জন দৌড়াইয়া পালিয়ে যায়। সিনহা কান্না করতে করতে তাদের উঠানের উপর গেলে তার মাকে উঠানের উপর মাটিতে দুই পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসে। তারা রুনা খাতুনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। আসামী মিলন সহ তার স্ত্রী রুনার বাড়ীতে বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে গৃহস্থলী কাজ করতো। ধারনা পর্ব পরিকল্পিতভাবে রুনা খাতুনকে বসত বাড়ীর উঠানের উপর মাটিতে ফেলে দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার ব্যবহৃত একটি রেডমি এনড্রয়েড মোবাইল ফোন জোর পূর্বক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পাংশা থানায় সংবাদ দিলে থানা পুলিশ বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে রুনা খাতুনের মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট রুনা খাতুনের বড় ভাই মোঃ রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে মিলনসহ অজ্ঞাতনামা ২জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ৩জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীর্ট প্রদান করেন।
মামলার বাদী রায়হান বিশ^াস বলেন, আমি আমার ছোট বোনের হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের এ রায়ে আমি সন্তষ্ট। অন্যান্য আসামীর সঠিক বিচার আশা করছি।
আসামী মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন বলেন, আমি এখন দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো, কি খাবো। ন্যায় বিচার পেলাম না, আমার স্বামী নির্দোষ। আমি আপীল করবো।
আসামীপক্ষের আইনজীবি এ্যাড. মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, আসামী ন্যায় বিচার পায়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করবো। আসামী গরীব হওয়ার কারণে টাকা জোগার করে আপীল করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি সহকারী কৌশলী এ্যাড. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ মামলায় ৩ আসামীর মধ্যে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় আজ হলো। ২জনের বিচার শিশু আদালতে হচ্ছে। আজকের রায়ে আমরা সন্তোষ্ট। ন্যায় বিচার পেয়েছে বাদী।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন