মোঃ আমিরুল হক : ২০২৬-২৭ মৌসুমে আখ রোপণ ও সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে আখ চাষিদের নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর সুগার মিলের মধুখালী কৃষি বিভাগ, বালিয়াকান্দি সাবজোনের ৫৭-৫৮ নম্বর কেন্দ্রের উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বংকুর মারকাজ সোয়াদ হামাদ আল সালেম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানা প্রাঙ্গনে ফরিদপুর সুগার মিলের মধুখালী কৃষি বিভাগ, বালিয়াকান্দি সাবজোনের ৫৭-৫৮ নম্বর কেন্দ্রের উদ্যোগে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আব্দুস সাত্তার মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং বহরপুর আখ ক্রয় কেন্দ্রের সিআইসি মামুনুর রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুখালী ফরিদপুর সুগার মিলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (সম্প্রসারণ) কৃষিবিদ মোঃ এনায়েত উল্লাহ্, বীজ পরিবহন (এগ্রো) কৃষিবিদ নুরুজ্জামান, বালিয়াকান্দি সাবজোন ইনচার্জ মেহেদী হাসান, কৃষক মোহাম্মদ আলী, আব্দুল খালেক, আবু তালেব, আব্দুল হান্নান মিয়া প্রমুখ। এ সময় স্থানীয় প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কৃষকরা বলেন, ২২ শতাংশ জমিতে বছরে তিনবার পর্যন্ত বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হলেও আখ চাষে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। ফলে আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতি ৩০ মণ আখের দাম ১২ হাজার টাকা হলে অনেক কৃষকই আখ চাষে আগ্রহী হবেন বলে তারা জানান। একই সঙ্গে আখ চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
কৃষক আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, অন্যান্য ফসল উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও আখ চাষে প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো অনেক কম। আখ চাষে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন।
উঠান বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে আখের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে প্রতি মণ আখের দাম ১৪০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি মৌসুমেও প্রতি ৩০ মণে আরও ৩৫০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে আখ কেনা হচ্ছে। আখের বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করছে।
তারা আরও বলেন, ফরিদপুর অঞ্চলে আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে আখ চাষের ব্যবস্থা রয়েছে। বালিয়াকান্দির কৃষকদেরও পর্যায়ক্রমে এ প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে জমিতে নালা তৈরি করে আখ চাষ করা সম্ভব। এতে শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি চাষাবাদ সহজ হবে।
কর্মকর্তারা কৃষকদের জানান, নভেম্বর মাসের শুরুতে আখ রোপণ করলে একই জমিতে আখের সঙ্গে দুটি সাথি ফসল চাষ করা সম্ভব। সরিষা ও মসুরসহ বিভিন্ন সাথি ফসল চাষ করে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। কোনো একটি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য ফসল থেকে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বক্তারা বলেন, একসময় ফরিদপুর সুগার মিলের আওতাধীন অঞ্চলগুলোর মধ্যে বালিয়াকান্দি সাবজোনে সবচেয়ে বেশি আখ উৎপাদন হতো। বর্তমানে এ অঞ্চলে আখ চাষের পরিমাণ কমে গেছে। তাই আগামী মৌসুমে কৃষকদের আরও বেশি জমিতে আখ চাষের আহ্বান জানানো হয়।
তারা বলেন, আখ তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিমুক্ত একটি ফসল। সময়মতো কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। একজন কৃষক এক একর জমির জন্য নির্ধারিত পরিমাণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সারও নিতে পারবেন এবং তা অন্য জমিতে ব্যবহার করতে পারবেন।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষকদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি ফরিদপুর সুগার মিলকে টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষকদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য আখ চাষে সম্পৃক্ত করা গেলে আখ চাষের লাভজনক দিকটি বাস্তবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এজন্য কৃষকদের অল্প অল্প করে জমি আখ চাষে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, ‘‘আপনারা আমাদের সুযোগ দিন, আমরা আপনাদের পাশে থেকে আখ চাষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব। আখ চাষ কৃষককে কখনোই নিরাশ করে না।’’
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন