স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলার হাট গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী বিথী আক্তার (ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ ইন্টার্নি) কে সিজারিয়ানের সময় পেটের মধ্যে গজ রেখে সেলাইয়ের পর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনায় রবিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাকিবুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ৬ মে দুপুর ২ টার সময় বিথী আক্তার (ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ ইন্টার্নি) কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তামান্না, ডা. অরবিন্দুর তত্ত্বাবধানে সিজার করানো হয়। তখন পেটের মধ্যে মব (গজ) রেখে সেলাই করে দেয়। সিজারের চার দিন পর রোগী বমি করা অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে সিজারের দেড় মাস পর বিথী আক্তারের পেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করলে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। আল্ট্রার রিপোর্টে দেখা যায় বিথী আক্তারের পেটের ভিতর মব (গজ) কাপড় রয়েছে। তাৎক্ষনিক ভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা তাদের কথা আমলে না নিয়ে পুনরায় আল্ট্রা করার তাগিদ দেন। তাদের কথামতো পুনরায় আল্ট্রা করা এবং পূর্বের রিপোর্টই আসে। তখন তারা সার্জারি বিভাগে বদলী করে। সেখানে গত ১৫ জুলাই বিথী আক্তারের দ্বিতীয় অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং পেট থেকে মব (গজ) বের করানো হয়। কিন্তুঅপারেশনের সময় দেখা যায় বিথী আক্তারের পাকস্থলির বৃহদান্তের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাৎক্ষনিক ভাবে ডাক্তার তাকে বাইপাস সার্জারি করে মল বের করার রাস্তা করে দেয় এবং দুই মাস পর হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা ডাক্তারের পরমার্শ অনুযায়ী গত ২০ সেপ্টেম্বর আমার স্ত্রী বিথী আক্তারকে পুনরায় সার্জারি বিভাগে ভর্তি করি। ইকো, ইসিজি রিপোর্ট অনুযায়ী ডাক্তার সিসিইউতে রেফার করেন। সে অনুযায়ী আমার স্ত্রী বর্তমানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার স্ত্রীর চিকিৎসা বাবদ প্রচুর অর্থ খরচ হয়। আমার স্ত্রীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সহ আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবী জানাই।
ভুক্তভোগী বিথী আক্তার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদদীন মৃধা পাড়ার ছোরাপ মন্ডলের মেয়ে। বর্তমান স্বামীর সাথে জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করেন। পেশায় ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ বিথী আক্তার। চার মাস ধরে নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে না পেরে বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) জীবনের শেষ লড়াই লড়ছেন।
বিথী তার ফেসবুকে পোস্টের এক স্টাটাসে লিখেন, সিজারে পেটে গজ (মব) রেখে ছিলো ডাক্তারা। আমি একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ (নার্স)। আমার পড়াশোনা শেষ। ইন্টার্নি করতে পরি নাই। লাইসেন্সও দিতে পারি নাই। আজকে আমি আপনাদের সাথে কয়েকটি কথা শেয়ার করবো। মে মাসের ৬ তারিখে আমার সিজার হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখন ডাক্তার আমার পেটের ভেতর গজ (মব) রেখে দেয়। আমি একটা নার্স আর আমার সাথেই যদি এমন অবস্থা করে তাহলে সাধারণ জনগণের কি হবে? ২য় অপারেশন করা লাগছে ২ মাস পর। যেটা ছিলো খুবই বড় অপারেশন আইসিইউ তে থাকতে হয়। পেটের নাড়ী পচে যায়। তখনই বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। আবার ২ মাস পর মেডিকেলে আসলাম আরেকটা সার্জারি করানোর জন্য। বিগত ৪ টা মাস ধরে আমার উপর দিয়ে ঝড় যাচ্ছে। এখন আমি আইসিইউ তে ভর্তি আছি। আমার এখন হার্টের সমস্যাসহ নানান রোগ দেখা দিয়েছে।আগের ওজন ছিল ৬১ কেজি আর এখন ৩৯ কেজি। বাবুটাকে ৪ মাস ধরে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছি না আর পারবো কিনা জানি না। বাচ্চাকে ধরা তো দুরে থাক কান্না করলে ঘরে শুয়ে শুয়ে কান্না করি। বাঁচাবো কিনা শিউর না। আমি মরে গেলে আমার সন্তানের কি হবে? একজন মা,বাবার বড় সন্তান আমি মারা গেলে বাড়ির হাল কে ধরবে। আমার সাজানো পরিবার,স্বপ্ন,জীবন সবই নষ্ট।
বিথী আরও জানান, এই ঘটনার স্বপক্ষে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি উক্ত অস্ত্রোপচারের সাথে জড়িত চিকিৎসক ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেছেন। বিথী আক্তারের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, চিকিৎসার নিশ্চয়তা, দায়ী চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন