পাংশায় ব্যবসায়ীকে চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে চুরি : ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ২২০ ভরি রুপার অলংকারসহ এক চোর গ্রেপ্তার

লেখক:
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর পাংশা মডেল থানা পুলিশের অভিযানে চোরাইকৃত ১৫ ভরি ০১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার উদ্ধার ও ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
তিনি বলেন, রাজবাড়ীর পাংশা থানার নারায়ণপুর দত্ত মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’র মালিক শহিদুল ইসলাম ২জন আসামীর বিরুদ্ধে পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন, তার স্বর্ণের দোকান থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াই টা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টার মধ্যবর্তী যেকোন সময়ে বিশেষ কায়দায় ২০ টি স্বর্ণের আংটি, ১৬ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ২০ জোড়া স্বর্ণের কানের পাশা দুল, ৪টি স্বর্ণের গলার হার, ১০টি স্বর্নের চেইন সহ ২৫ ভরি স্বর্ণ, যার মূল্য- ৫৫ লক্ষ টাকা এবং ২০০ ভরি রুপার গহনা, যার মূল্য ৮ লক্ষ টাকা ও নগদ প্রায় ২ লক্ষ টাকাসহ মোট ৬৫ লক্ষ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে পাংশা মডেল থানায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলা রুজু হয়।
তিনি আরও বলেন, মামলা রুজু হওয়ার পরপরই পাংশা থানা পুলিশ তদন্তে নামে এবং মামলা তদন্তকালে জানতে পারে যে, খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে কৌশলে এ চুরির পরিকল্পনা করে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলে জলিলপাড়া বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে রসমালাইয়ের সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। এরপর পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে দোকানে ফিরে আসে এবং দোকানে থাকা অপর কর্মচারী দীপকে কৌশলে খাবার খেতে পাঠিয়ে দিয়ে আলমারি খুলে সমস্ত স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা চুরি করে। পরবর্তীতে চাবিটি পুনরায় নিয়ে পকেটে রেখে তাকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে আসামীর অবস্থান শনাক্ত করে পাংশা থানার একটি চৌকস আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর ৫ টায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকা থেকে খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি বলেন, ধৃত আসামীর দেখানো মতে স্বর্ণালঙ্কার ছোট-বড় ৩০টি আংটি, ১১টি চেইন, ১টি সীতাহার, ৩টি পল, ১টি চান, ২৬ জোড়া ছোট-বড় কানের দুল এবং ১টি ব্রেসলেটসহ ১৫ ভরি ০১.৫৮ আনা, মূল্য ৩৩ লক্ষ ২১ হাজার টাকা এবং রৌপ্যালঙ্কার ৫৮ জোড়া নুপুর, ৩৭টি চেইন, ৬টি বাজু, ৪টি ব্রেসলেট, ১৬ জোড়া হাতের চুরি, ৩২টি ছোট-বড় তাবিজ, ১৯ জোড়া কানের দুল এবং ১৩টি চান সহ ২২০ ভরি, মূল্য ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধারপূর্বক বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ধৃত আসামীকে রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হলে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীসহ অন্যান্য যোগসাজশকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। রাজবাড়ী জেলা পুলিশ কর্তৃক এরকম চাঞ্চল্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসময় রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মফিজুল ইসলাম, পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মঈনুল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।