স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের আশ^াসে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া জৈবিক সন্তানকে অস্বীকার করায় মোঃ ফারুক হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোঃ তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামী পলাতক ছিল। দন্ডিত আসামী ফারুক হোসেন জেলার পাংশা উপজেলার নিশ্চন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে।
মামলার অভিযোগে প্রকাশ, ওই নারী একজন তালাকপ্রাপ্ত । তার বাড়ী ও মোঃ ফারুক হোসেনের বাড়ী পাশাপাশি। ফারুক হোসেন তার খারাপ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য প্রতারণাপূর্ণভাবে ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ৩০ মে দন্ডিত যুবক মোঃ ফারুক হোসেন বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ওই নারীকে তার বাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার খোকসা রেল স্টেশন এলাকার আসামীর নিকট আত্মীয় বাবলু খোন্দকারের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে রাত ৮ টার সময় বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণ করে। ওই বাড়ীতে টানা ২ মাস অবস্থান করে প্রতারণামূলকভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর আসামী মোঃ ফারুক হোসেন বিয়ের কাগজপত্র তৈরী করার নাম করে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং তিনটি স্ট্যাম্প কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এক পর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ও বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন নির্যাতন শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কৌশলে সেখান থেকে চলে আসে। পাংশায় থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নেওয়ায় রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেণ। আদালত পাংশা থানায় এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। আসামী মোঃ ফারুক হোসেন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সেকেন্দার হোসেন মামলাটি তদন্ত পূর্বক আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ও ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. মোঃ জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, ট্রাইব্যুনালে তদন্তকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্য সহ ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামী মোঃ ফারুক হোসেন, পিতা- আহম্মদ খা, সাং- নিশ্চিন্তপুর, থানা- পাংশা, জেলা- রাজবাড়ী এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে উক্ত ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।
তিনি আরও জানান, এছাড়াও ট্রাইব্যুনাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের প্রতি আরোপিত অর্থদন্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করার আদেশ দেন। উক্ত ক্ষতিপূরণের টাকা আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের বর্তমান সম্পদ হতে আদায় করা সম্ভব না হলে তিনি ভবিষ্যতে যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হবেন সে সম্পদ হতে আদায়যোগ্য হবে এবং এক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের উপর অন্যান্য দাবী অপেক্ষা ক্ষতিপূরণের দাবী প্রাধান্য পাবে বলে ট্রাইব্যুনাল আদেশে উল্লেখ করেন।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী কালেক্টর, রাজবাড়ীকে আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয় প্রকার সম্পদ নিলামে বিক্রয় করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ এই ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান দেন। ক্ষতিপূরণের উক্ত অর্থ এই ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়া সাপেক্ষ্যে তা ভিকটিমকে প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
একই সাথে আসামী মোঃ ফারুক হোসেন ভিকটিম এর গর্ভজাত পুত্র রাফিউল হোসেনের জৈবিক পিতা (ইরড়ষড়মরপধষ ঋধঃযবৎ) হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৩ (১) (খ) ধারার বিধান অনুযায়ী ভিকটিমের গর্ভজাত উক্ত পুত্র সন্তান পিতা হিসেবে আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের বা মা হিসেবে ভিকটিম এর কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হবেন। ভিকটিম এর উক্ত গর্ভজাত সন্তান আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের নিকট থেকে পুত্র হিসেবে প্রাপ্য সকল আইনানুগ অধিকার প্রাপ্ত হবেন।
উক্ত আইনের ১৩(১) (গ) ও (ঘ), ১৩ (২) ও ১৩ (৩) ধারার বিধান অনুযায়ী ভিকটিম এর গর্ভজাত উক্ত পুত্র রাফিউল হোসেনের বয়স ২১ (একুশ) বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রদেয় অর্থ সরকার আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের নিকট হতে আদায় করতে পারবে এবং তার বিদ্যমান সম্পদ হতে উক্ত অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক হবেন সে সম্পদ হতে তা আদায়যোগ্য হবে। বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রাজবাড়ী ভিকটিম এর উক্ত গর্ভজাত পুত্র সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রদেয় অর্থের পরিমান নির্ধারন করবেন এবং তা বাস্তবায়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
আসামী মোঃ ফারুক হোসেনের এই মামলায় বিচারাধীন সময়ের হাজতবাস (ঢ়বৎরড়ফ ড়ভ ঁহফবৎ ঃৎরধষ পঁংঃড়ফু) বিবেচনার ক্ষেত্রে ঈড়ফব ড়ভ ঈৎরসরহধষ চৎড়পবফঁৎব, ১৮৯৮ এর ৩৫অ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন