সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ী সদর উপজেলার একটি গ্রামের অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীকে আদালতের আদেশে তার ফুফুর জিম্মায় দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার বাবা। তাঁর অভিযোগ, মেয়ের ফুফু ও ফুফা দুজন মিলে তাঁকে না জানিয়ে কিশোরীকে নিয়ে গিয়ে ফুফুর সৎ ছেলের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনার পর থেকে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরীকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠানো হয়। কয়েক দিন সেফ কাস্টডিতে থাকার পর আদালতের পরবর্তী আদেশে তাকে ফুফুর জিম্মায় দেওয়া হয়।
কিশোরীর বাবার দাবি, তাঁর বড় মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। একপর্যায়ে তাঁর আপন বোন, অর্থাৎ কিশোরীর ফুফু, এবং ফুফা মিলে মেয়েটিকে নিয়ে যান। পরে তাঁরা ফুফুর সৎ ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী, কিশোরীর বয়স ১৬ বছর ৬ মাস। বাবার ভাষ্য, ছেলেটি বিদেশে থাকেন। এ অবস্থায় বিয়ের বিষয়টি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রস্তাব আসছিল। তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এরই মধ্যে মেয়ের ফুফু ও ফুফা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা জানান। তখনই তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
কিশোরীর বাবার অভিযোগ, তাঁর ফুফু ও ফুফা মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে গিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেন এবং বিষয়টি তাঁদের কাছে গোপন রাখেন। পরে কিশোরীকে তার নানাবাড়িতে রাখা হলে সেখান থেকেও ফুফা তাকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব ঘটনার পর মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁরা রাজবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরীকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে সেফ কাস্টডিতে রাখা হয়। কয়েক দিন পর আদালতের পরবর্তী আদেশে তাকে ফুফুর জিম্মায় দেওয়া হয়।
কিশোরীর বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় মেয়েকে ফুফুর জিম্মায় দেওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে বোধগম্য নয়। মেয়ের মতামত স্বাধীনভাবে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। রাতে ঘুমাতে না পেরে ঘুমের ওষুধ সেবনের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, এ ঘটনায় কিশোরীর ফুফা ও ফুফুর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফুফার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। কিশোরীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন