স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী জেলা জজ আদালত ভবনে অবস্থিত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বিতীয় আদালতের চারটি মামলার নথি গায়েব হওয়ার ঘটনায় মোঃ মুরাদ হোসেন নামে আদালতের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মুরাদ হোসেন বর্তমানে পলাতক। তিনি আদালতের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে মামলার নথি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮-৯জনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে গত ১৮ অক্টোবর রাজবাড়ী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন রাজবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার বাদী আজিবর হাওলাদার রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বিতীয় আদালতের বেঞ্চ সহকারী। তিনি গত ৬ অক্টোবর রাজবাড়ীর সদর আমলী আদালতে নালিশি মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ২০৪, ৩৮১, ৪০৮ ও ৪১৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ মুরাদ হোসেন ২০০৮ সালের ৫ জুন থেকে রাজবাড়ী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, বাদী আজিবর হাওলাদার ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বিতীয় আদালতের বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ওই আদালতে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আদালতের চারটি মামলার নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যে জিআর ৫২৭/২০২২, জিআর ১০৮/২০২৩ ও জিআর ৫০৮/২০২২ নম্বরের মামলা রয়েছে। নথিগুলো নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্টরা খোঁজাখুঁজি করেও নথিগুলোর সন্ধান পাননি।
বাদীর অভিযোগ, নথি খোঁজার একপর্যায়ে তিনি সাক্ষীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে ওই আদালতের সেরেস্তায় এসে আলমারিতে রাখা নথিপত্র দেখতেন এবং কখনো কখনো নথি নিয়ে যেতেন। বাদী নিজেও তাঁকে নথিপত্র খোঁজাখুঁজি করতে দেখেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রাজবাড়ী জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী মোঃ ওলিউল্লাহ শিকদার (চঞ্চল) গত ৮ মার্চ সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, জিআর ৫২৭/২০২২ মামলার আসামি মোঃ শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, অর্থের বিনিময়ে মুরাদ হোসেনের যোগসাজশে ওই মামলার নথি গায়েব করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগ অনুযায়ী, মুরাদ হোসেন ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের নথি সরিয়ে ফেলে সরকারি কর্মচারী হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব ও বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনা জানাজানি হবার পর থেকে আসামি মোঃ মুরাদ হোসেন আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর আসামি মোঃ মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই নারীর অভিযোগ ছিলো, মোঃ মুরাদ হোসেন ও তার দুই সহযোগী জেলা শহরের শ্রীপুর গ্রামের রাজবাড়ী টেলিফোন এক্সচেঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়ামত আলী বিশ্বাসের বাস ভবনের চতুর্থ তলার একটি রুমে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন