স্টাফ রিপোর্টার : বর্ষার পানি জমি থেকে নামার পরই মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপনের জন্য জমি তৈরীর পর রাজবাড়ীর মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণের ব্যস্ততা। আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজ ঘরে তুলতে ও দাম পাওয়ার আশায় স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলার আশা নিয়ে জমি প্রস্তুত ও পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া মুড়িকাটা পেঁয়াজের রোপণ শেষে ডিসেম্বরেই ফসল ঘরে তোলার আশা করছেন চাষিরা। স্বল্প সময়ে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এ পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ রয়েছে তাদের। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত সার না পাওয়া ও বাজারদর নিয়ে রয়েছে চাষীদের মাঝে দুশ্চিন্তা।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউবা সারি সারি করে রোপণ করছেন পেঁয়াজ। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিয়েও চালাচ্ছে এ কর্মযজ্ঞ। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও উচু জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপনে এ ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কালুখালী উপজেলার হরিণবাড়িয়া চরের কৃষক আফজাল হোসেন, আতিয়ার রহমান, আলম শেখ বলেন, এক বিঘা জমিতে মেলা খরচ পড়ে। চাষে লাগে ৩ হাজার টাকা, সারের জন্য লাগে ১০ হাজার টাকা,বীজ পিজ লাগে ১০ মণ তার দাম ৩০ হাজার টাকা, পরেত (শ্রমিক) প্রতি বিঘায় লাগাতে ৮ টা লাগে তার দাম জন প্রতি ৮শ মোট ৬হাজার ৪শ টাকা। পানি দিতি (সেচ) ৩ হাজার টাকা,ওষুধ ৫ হাজার টাকা, নিরানীর জন্য লাগবে ৩ থেকে ৪টা পরেত (শ্রমিক) ৩ হাজার টাকা। মোট খরচ ৬০ হাজার ৪শ টাকা।
তারা আরও বলেন, এ হিসাব তো যাদের নিজের জমি আছে তাদের। যাদের জমি লিজ নিতে হয় তাদের ওই ৬০ হাজারের সাথে আরও ২০-৩০ হাজার টাকা যোগ করেন।
পাশেই বসে পেঁয়াজ রোপন করছিলেন ফজল মোল্লা। তিনি বলেন, খরচ করে পিজ লাগাই কিন্তু দাম পাইনে তো। প্রতি বচর লসই যাচ্চে। বিঘেয় খরচ হচ্চে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ফলন যদি ভালো হয় তালি বিঘেয় ৭০ থেকে ৮০ মণ পিজ পাবো। এহন বাজারে দাম কি পাবোনে সেটার ওপরে হিসাব হবি লাভ লসের।
আরেক কৃষক সামসুদ্দিন প্রামানিক বলেন, এহন লাগাচ্চি তিন মাসের মদ্দি (ভেতর) ঘরে তুলা যাবি। এহন সমস্যা হয়ছে বাজারে সার পাচ্চি নে। সারের দোকানে গেলি দোকানদার কয় সার নাই। আবার যাও টুকিটাকি পাওয়া যায় দাম বেশি। সরকার সারের দাম কুমালি কৃষক এটু বাঁচতো।
একই অভিযোগ করেন কামাল খান,নাসির মোল্লা,আফতাব প্রামানিক, হালিম সরদার। তারা বলেন, সারের যারা ডিলার আছে ওরা বড় চোর। ওরা সার মজুদ করে রাখছে বেশি দামে বিক্রির জন্নি। অপর প্রশ্নে জবাবে বলেন, কৃষি অফিসারদের কাছে বলে কোন লাভ নাই। তারা তো মাঠেই আসে না। বাজারের দোকানে বসে চা খেয়ে চলে যায়। সরকারের কাছে আবেদন আমারা যেন বাজারে গেলেই সার পাই।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জনি খান বলেন, সারা দেশের ১৪ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এ জেলাতে। জেলায় হালি ও মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে ৪০ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে। চলতি বছর জেলায় ৬ হাজার ১৩ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন অর্জন এবং চাষিরা লাভবান হবেন।
সার সংকটের অভিযোগ অস্বিকার করে জনি খান বলেন, কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের খোঁজ খবর রাখছে। তাদের নিয়মিত কৃষি বিষয়ক পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা যেন সার পায় তার জন্য নিয়মিত সার সরবরহ করা হচ্ছে। আপাতত জেলায় সারের সংকট নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খান মোহাম্মদ জহুরুল হক
কার্যালয় : রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন, কক্ষ নং : ৩ (নীচতলা),
প্রধান সড়ক, রাজবাড়ী।
ফোন : ০১৭১১-১৫৪৩৯৬, ০১৯৭১১-৫৪৩৯৬
ই-মেইল : rajbariprotidin409@gmail.com
স্বত্ব © ২০২৬ রাজবাড়ী প্রতিদিন