
সিরাজুল ইসলাম : মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের চলমান নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ২০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ ও দৌলতদিয়া নৌপুলিশ। এ সময় অবৈধভাবে মাছ শিকারের দায়ে আটজন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে নিশ্চিত করেন দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা।
উপজেলার গোয়ালন্দঘাট থানাধীন পদ্মা নদীর বিভিন্ন অভয়াশ্রম ও নদীবন্দরে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এবং রাজবাড়ীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এ সময় জেলা ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দৌলতদিয়া নৌপুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মায় অভিযান চালিয়ে সর্বমোট দুই লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে এক হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা পুলিশ হেফাজতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি এক লাখ ৯৯ হাজার মিটার কারেন্ট জাল মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য স্থানে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া নদী থেকে উদ্ধার করা ২০ কেজি তাজা ইলিশ মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
অভিযানে আটক আট জেলের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেনÑপাবনা জেলার আমিনপুর থানার খারচর এলাকার হোসেন মোল্ল্যা (২০), হাবু মন্ডল (১৯) ও আবু কালাম মন্ডল (৩০); একই থানার দারাই এলাকার আরিফুল ইসলাম (৩১), আফজাল মন্ডল (২৬) ও বারেক সরদার (৩৫) এবং রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানার চরবরাট এলাকার বাচ্চু মোল্ল্যা (৫০) ও রশিদ সরদার (৫০)।
মৎস্য বিভাগ জানায়, আটক জেলেদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের নির্ধারিত নদ-নদী এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সব ধরনের ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিয়মিত বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগ।
