গ্রাম পুলিশ হাসপাতালে : নারী গ্রামছাড়া : রাজবাড়ীতে নারীর চুল কেটে গলায় জুতার মালা দিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে টাকা দাবীর পর চাহিদামতো অর্থ না পেয়ে এক নারীকে চুল কেটে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন করেছে স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের তদন্ত পুর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি ওই গ্রামপুলিশ সদস্যকেও একই কায়াদায় নির্যাতন করা হয়। তাদের দুজনকে একসঙ্গে গ্রাম ঘোরানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে কি হয়েছে আমরা জানি না। তবে ফেসবুকে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে গ্রাম পুলিশের আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফেনসবুক ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ভাবে ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়। আসলে ঘটনাটি সঠিক কিনা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আমরা অপরাধীদের শাস্তির দাবী জানাই।
নির্যাতনের শিকার পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর ওই নারী মান সম্মান হারিয়ে এখন বাড়িছাড়া।
গ্রাম পুলিশ সদস্যে বলেন, রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করেন। স্থানীয় দোকানগুলোতে পাইকারি দামে পণ্য দিতেন। গত ৯ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। এ সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্বপরিচিত এক নারী তার কাছ থেকে কলা নেন। এক হাজার টাকার নোট ভাঙতি না থাকায় টাকা দেবেন বলে চলে যান। টাকা নিতে বাড়ি যেতে বলেন।
গ্রাম পুলিশ বলেন, সেখানে যাওয়া মাত্রই স্থানীয় আব্দুল কাদের বেপারীর ছেলে অটোরিকশাচালক লাভলু বেপারী তাকে ওই নারীর ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে দুজনের (কলা বিক্রেতা ও ক্রেতা) মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে লাভলু। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আশপাশের লোকজন ডেকে মারধর করে। দুজনের গলায় জুতার মালা, কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়। নারীর চুল কেঁটে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মুক্ত হই। এখন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তাদের দাবীকৃত টাকা না দেওয়ায় মারধর করার পর জুতার মালা গলায় দিয়ে ঘুরিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে। ওই নারীর চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করা মুশকিল হয়েছে। আমার অপরাধ কি? আমি কলার টাকা আনতে গিয়ে অর্থদাবীকারীদের রোষানলে পড়েছি। এখন দু’টি পরিবার সর্বশান্ত। আমি সঠিক বিচার দাবী করছি। আশা করছি প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবেন।
পাঁচুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান রতন বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।