প্রতারণার মাধ্যমে মালিক ছাড়াই গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করেছে বিআরটি

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

মাসুদ রেজা শিশির : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্কুল শিক্ষক আহম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন সবুজ। জীবিকার তাগিদে রাজধানী ঢাকাতে ছোট্ট একটি ব্যবসা করে জীবন জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। আনোয়ার হোসেন সবুজের সাথে ঘটেছে এক ঘটনা। পুবালী ব্যাংক থেকে ঋন করে একটি প্রাইভেট কার কিনেছিলেন আনোয়ার হোসেন সবুজ ( ঢাকা মেট্রো-গ ৩২ -২৫৬৫ )। তার অনুপস্থিতিতে ওই গাড়ীটির মালিকানা পরিবর্তন করে অন্য কাউকে মালিক বানিয়ে দিয়েছে বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন সবুজ ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতেও কোন সুরহা না হওয়ায় ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘ তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত মালিকের পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছে। সেই সাথে বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের ২১ মার্চ সহকারী পরিচালক বিআরটি ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা মিরপুর ১৩ বিআরটি প্রকৃত মালিকের সাসপেনশন কপি থাকা সত্ত্বেও বিআরটির অসাধু কর্মকর্তাগণ প্রকৃত মালিকের সাসপেনশন উইড্রো উত্তোলন কফি না থাকা সত্ত্বেও টাকার বিনিময়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর জাল করে অন্যের নামে মালিকানা প্রদান করে যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ঘটনাটি জানার পরে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে কম্পিউটারে ভুল হয়েছে। যখন ফিটনেস ট্যাক্স টোকেন এবং কর নবায়ন করতে আসবে তখন ঠিক করে দিবো। এ যাবৎকালে বিআরটিএ অধিদপ্তরে ৫৩ টি চিঠি দেওয়া হয়েছে, সঠিক কোন সুহারা দিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন আনোয়ার হোসেন সবুজ।
দীর্ঘ সময় আনোয়ার হোসেন সবুজ বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে আসলেও তারা নানাভাবে তালবাহানা করে কাল ক্ষেপন করে আসছে। এ অবস্থায় আনোয়ার হোসেন সবুজ বাধ্য হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের প্রধান কার্যালয় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
আনোয়ার হোসেন সবুজ বলেন, ২০২২ সাল থেকে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে অদ্যবধি তারা আমার কোন সমাধান দিতে পারেনি। উল্টো এ কাজের সাথে যারা জড়িত ছিল বিআরটিএর কর্মকর্তারা তাদেরকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বদলি করে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে আসছে।
আমি বিআরটিএর চেয়ারম্যানের নিকট ২০২৩ সালে লিখিত আবেদন করলেও শুধু কাল ক্ষেপন ছাড়া আর কিছুই পাইনি। তিনি আরো বলেন, বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে অসংখ্য মানুষের সাথে এরকম প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রকৃত মালিকদের সর্বস্বান্ত করে চলছে।
এ ব্যাপারে একাধিকবার বিআরটির চেয়ারম্যান কে ফোন করলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।