
মাসুদ রেজা শিশির : রাজবাড়ীর পাংশায় চোর সন্দেহে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জজ আলী বিশ্বাস উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাজাইল গ্রামের মোঃ শুকুর বিশ্বাস এর ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি কাজ করতেন। সে তিন সন্তানের জনক। তবে পরিবারের দাবী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৪ টার দিকে পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট করিম মন্ডলের মিল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পাংশা উপজেলার কসবমাজাইল ও পাট্টা ইউনিয়নের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। গত ২২ জুন মাজাইল গ্রামের জামিন বিশ্বাস (নিহতের চাচা) কে পিটিয়ে হত্যা করে দড়ি বাংলাট এলাকার লোকজন। ওই ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলার প্রধান আসামী মোঃ আকমল হোসেন টিক্কা। আসামীরা জামিনে এসে পরিকল্পিত ভাবে জজ আলী বিশ্বাসকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবারের দাবী।
নিহতের স্ত্রী শিলা খাতুন দাবী করেন, রাতে তার স্বামী (নিহত) বাড়ির পাশে নদীতে মাছ মারে। গত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে কসবমাজাইল ইউনিয়নের আরিফ ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। আমি তাকে বার বার নিষেধ করছি রাতে বাইরে না যেতে। সে আমার কথা না শুনে চলে যায়। সকালে জানতে পারি আমার স্বামীকে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। আমি সঠিক বিচার চাই।
নিহতের পিতা শুকুর ওরফে শুরাই বিশ্বাস বলেন, দুই মাস আগে ওই টিক্কা ও হাকিমের নেতৃত্বে আমার ভাই জামিন বিশ্বাসকে পিছিয়ে হত্যা করে। আমরা মামলা করার পর থেকে টিক্কা বিভিন্ন ভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। তারা জামিনে এসে এবার আমার ছেলেকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পুলিশ আগের মামলায় সঠিক ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটতো না।
পাট্টা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ মাহামুল হাসান অন্তর দাবী করেন, নিহত জজ আলী বিশ্বাস ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘ দিন ধরে কসবমাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা টিক্কা খানের সাথে আমাদের ঝামেলা চলে আসছিল। জজ আলীকে রাতে তুলে নিয়ে ফাঁকা মাঠে ভেতর রাস্তার উপর পানির মটর চুরির অভিযোগ দিয়ে ইট লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শুধু মাত্র বিএনপি করার অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো যদি আমাদের কর্মীদের এভাবে হত্যা করা হয় তাহলে আমরা যাবো কোথায়। আমরা চাই পুলিশ ভিডিও দেখে ঘটনা সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটানো খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। নিরাপত্তা স্বার্থে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো এজাহার দেওয়া হয়নি। এজাহারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
