
সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের উপজেলার সামনে মানববন্ধন ও নসর উদ্দিন সরদার পাড়ায় সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) দুপুর ১২টায় গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নসর উদ্দিন সরদার পাড়ায় সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা খুলনা মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এলাকার কয়েকশত নারী পুরুষ এ কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করে।
গোয়ালন্দ উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা সাইদ ফকিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে এ সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানার তৎকালীন (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার এবং এসআই শামিম দেওয়ানের চাকরিচ্যুত এবং এ মামলা পূনরায় পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
জানাযায়, ২০২২ সালের ৭ মে গোয়ালন্দ শহরের এফকে টেকনিক্যাল কলেজের বারান্দা থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন তৈয়ব পেয়াদার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মামুন পেয়াদা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেন। এ মামলায় গত ৪ আগষ্ট ঘটনার প্রায় চার মাস পর পুলিশ আবু সাইদ মন্ডলকে আটক করে। ওই মামলায় আরও দু’জন আসামি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবু সাইদ মন্ডল বলেন, তৎকালীন সময়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হয় এবং এসআই শামিম আরও ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। তাদের দিয়ে মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে আমাকে এ মামলায় ফাঁসায়। আমাকে ঢাকা থেকে আটক করে নিয়ে এসে ডিবি অফিসে ৬ দিন আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। এছাড়া ঢাকা থেকে আনার পথে আমাকে তরার ব্রীজে দুই তিনবার বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে এবং ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে এ মামলায় ফাঁসায় বলে তুই বিএনপি করোস না দেখি তোকে কে বাঁচায়। আমি প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর নিকট আহ্বান জানাই এ মামলা পিবিআইয়ের হাতে দিয়ে আবার তদন্ত করলে আসল সত্য বের হয়ে আসবে। এটা রাজনৈতিক মামলা না হলেও এ মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
তৎকালীন গোয়ালন্দ ঘাট থানায় কর্মরত এস আই শামীম দেওয়ান বলেন, এটা কোন রাজনৈতিক মামলা না। এ মামলায় অপর দুই আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে তার সম্পৃক্ততার কথা বলেছে। এমনকি সাইদ ফকির নিজেও ম্যাজিস্টেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে সেখানে পুলিশ থাকে না। সে ইচ্ছে করলে ম্যাজিস্টেটের কাছে সত্যি বলতে পারতেন।
