
সোহেল রানা : ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান রোগীর পেটে দেড় কোজি গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কবিকা মন্ডল (৩৫) নামে ৩ সন্তানের জননী গৃহবধু এক মাস ২০ দিন পর মারা গেছে। কনিকা মন্ডল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২ টার দিকে রাজধানী ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধুর মৃত্যু বরণ করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখাযায়, শোকের মাতম চলছে। পুরো গ্রাম যেন শোকের আবহ বইছে। সবাই এ ঘটনার সাথে জড়িত চিকিৎসকের বিচার দাবী জানিয়েছেন।
নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল বলেন, গত ২৯ জুন ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ানের জন্য ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষী রানী দত্ত সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তান প্রসব করান। পরদিনই গত ৩০ জুন কনিকার পেট ফুলে যায়। সেখান থেকে ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালে গত ৩ জুলাই ভর্তি করা হয়। গত ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্বাবধানে চিকিৎসাকালীন পরীক্ষা করে দেখতে পান তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছে। ওইদিনই সেখানে অপারেশনের মাধ্যমে গজ বের করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২ টার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। এখন আমি ২ মাসের সন্তান নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আরও ২ টি ছোট ছেলে নিয়ে অথৈই সাগরে পড়লাম। আমি বিচার দাবী করছি।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্ত আমার হোয়াইটঅ্যাপ ম্যাসেজ দিয়ে লেখেন, দাদা নমস্কার। ভালো থাকুন ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করি। সব কথার আগে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থী। ভুল মানুষেরই হয়, অনেক ঝামেলার ভিতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি আমি বার বার ক্ষমা প্রার্থী আপনার কাছে। কিভাবে অনেক কষ্টে আছি। আবারও ক্ষমা চাচ্ছি দাদা।
এ বিষয়ে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার খেয়াল নেই, একটু পরে ফোন দিচ্ছি বলে কেটে দেন। পরে আবারও যোগাযোগ করা হলে এক পুরুষ ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে বলেন, চিকিৎসক অসুস্থ কথা বলতে পারবেন না।
