
স্টাফ রিপোর্টার : ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে বয়স কমিয়ে চাকরিতে যোগদান এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক আলাউদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালে চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে যোগদানের সময় নিজের প্রকৃত বয়স গোপন করে ভিন্ন জন্মতারিখের জন্মসনদ ব্যবহার করেন তিনি। এরপর প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই তথ্যের ভিত্তিতেই সরকারি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন ও নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।
আলাউদ্দিন রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড়লক্ষীপুর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে কয়েক মাস রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আলাউদ্দিনের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ এবং বিআরটিএর নথিতে জন্মতারিখের ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
তার জাতীয় পরিচয়পত্রে নম্বর ৮৬৫ ৪১৩ এবং জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ১ জানুয়ারি ১৯৮২। সে হিসেবে ২০২১ সালে চাকরিতে যোগদানের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৩৯ বছর।
কিন্তু চাকরির জন্য দাখিল করা একটি জন্মনিবন্ধন সনদে জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২৭ জুলাই ১৯৯৫। ওই সনদের নম্বর ১৯৯৫৮২১৭৬৫১১১। এই জন্মতারিখ অনুযায়ী ২০২১ সালে চাকরিতে প্রবেশের সময় তার বয়স দাঁড়ায় প্রায় ২৬ বছর। অর্থাৎ একই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদে জন্মতারিখের ব্যবধান প্রায় ১৩ বছর।
অনুসন্ধানের সময় আলাউদ্দিনের আরও একটি জন্মনিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়। যার নম্বর ১৯৮২৮২১৭৬৫১০। সেখানে জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৮২, যা তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ১৯৮২ সালের জন্মতারিখ থাকা সত্ত্বেও ১৯৯৫ সালের জন্মতারিখের জন্মসনদ তিনি কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন।
শুধু জন্মনিবন্ধনেই নয়, তার পুরোনো বিআরটিএ ফরিদপুরের একটি মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান চালকের লাইসেন্সেও জন্ম তারিখের ভিন্নতা পাওয়া গেছে। ওই লাইসেন্সে জন্ম তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ১৯৭০। অথচ ২০২১ সালে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময়ও তিনি ভিন্ন তথ্য ব্যবহার করেছেন বলে পাওয়া নথিতে দেখা যায়। ওই আবেদনের লার্নার নম্বর ৫৪-১৩৮৫ এবং আবেদন নম্বর ৫৪-০০৭৩০।
অনুসন্ধানে আলাউদ্দিনের জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম ১৯৮২, একটি জন্মসনদে ১৯৯৫ এবং পুরোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১৯৭০ এই তিন ধরনের জন্মতারিখ সরকারি নথিতে দেখা গেছে।
অভিযোগ শুধু বয়সের তথ্য নিয়েই নয় তার শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিতেও রয়েছে গুরুতর অসঙ্গতি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা আলাউদ্দিন ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে অষ্টম শ্রেণি পাসের একটি সনদ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে একই বছরের মার্চ মাসে রাজবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনার একটি ছাড়পত্র সংগ্রহ করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আলাউদ্দিন ফকির বলেন, আমি রাজবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। আমার জন্ম তারিখ ১৯৯৫। আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১৯৭০ সাল আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওটা ব্যাকডেটে হয়তো অনেক আগে করা ছিলো। আপনি মহেন্দ্রপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়েও লেখাপড়া করেছেন? উত্তরে জানান, এটা দেখতে হবে। আসলে আপনার জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষা সনদ কয়টি? তিনি বলেন হয়তো কেউ আমার নামে তুলতে পারে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
