
সোহেল রানা : স্বজনদের কান্না আর শোকের ভারে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। মাকে হারানো নিষ্পাপ শিশুটির দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। এমন হৃদয়বিদারক মুহূর্তে শিশুটিকে বুকে আগলে দীর্ঘ সময় কোলে নিয়ে বসে থাকলেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।
শুক্রবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে মৃত কনিকা রানীর বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান জেলা প্রশাসক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রায় এক ঘণ্টা আগেই তিনি সেখানে পৌঁছান।
বাড়িতে গিয়ে কনিকার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন ডিসি। তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনেন, সান্ত্বনা দেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একপর্যায়ে স্বজনদের কাছ থেকে কনিকার শিশুটিকে কোলে তুলে নেন তিনি।
শিশুটিকে দীর্ঘ সময় বুকে আগলে রেখে পরিবারের সদস্যদের পাশে বসে থাকেন ডিসি আফরোজা পারভীন। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত শিশুটিকে পরম মমতায় আগলে রাখার এই দৃশ্য উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কনিকার স্বজনরা জানান, প্রিয়জন হারানোর শোকের পাশাপাশি ছোট শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। এমন কঠিন সময়ে জেলা প্রশাসক তাদের বাড়িতে এসে দীর্ঘ সময় পাশে থাকায় তারা কিছুটা সাহস পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের কনিকা মন্ডল (৩৫)। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। পরে অসুস্থ হয়ে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া গেলে অস্ত্রোপচার করে তা বের করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান তিন সন্তানের জননী কনিকা।
মাকে হারানো শিশুটিকে বুকে আগলে ডিসির দীর্ঘ সময় পাশে বসে থাকার দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।
