গোয়ালন্দে পদ্মার ভাঙন রোধে কাজে আসছে না জিওব্যাগ

লেখক:
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পদ্মার ভাঙনে কোটি টাকার জরুরি প্রকল্পে জিওব্যাগ ফেলা হলেও পদ্মার ভাঙন রোধে কাজে আসছে না জিওব্যাগ ফেলানোর প্রকল্প। স্থানীয়দের ভাষায় এ-সব প্রকল্প দিয়ে হরিলুট করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ১, ২ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় চার প্রকল্পের প্রায় সোয়া কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলানো হয়েছে। এছাড়া দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়াল জানিও মুন্সিবাজার এলাকায় গত বছর এবং বছর জরুরি প্রকল্পের আওতায় প্রায় কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রোধে কোন কাজেই আসছে না এগুলো। বরং শুষ্ক মৌসুমে এগুলো ফেলে বেধে দিলে হয়তো রক্ষা পেতো এই অঞ্চলের লোকজন।
সরজমিনে মুন্সি বাজার এলাকায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে কিছুদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কয়েক হাজার জিওব্যাগ ফেললেও তার কোন অস্তিত্ব নেই। এই সমস্ত জিওব্যাগ এর রক্ষণাবেক্ষণের দ্বায়িত্বে থাকা ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট তৌহিদ ছাড়া কাওকেই দেখা যায়নি ব্যাগ ফেলানোর সময় তার বক্তব্য তিনি সব ভিডিও করে রাখেন এগুলো পরে অফিসারদের দেখান কিন্তু ৬ হাজার সারে ছয় হাজার বস্তার জিওব্যাগের অস্তিত্ব নেই সেখানে।
বর্তমানে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সি বাজার এলাকার ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি কবরস্থান ও কয়েকটি বসতবাড়ি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পার্শ্ববর্তী মুন্সিবাজার, মসজিদ, একটি প্রাইমারি স্কুল, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়বে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে সকল স্থানের জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়েছিল। সে সকল স্থান থেকেই জিওব্যাগসহ তিন ফসলের জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই কারো। চোখের সামনে নদীগর্ভে যাচ্ছে বসতবাড়িসহ ফসলি জমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কিছু কাজ করে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছে। ফলে গত এক সপ্তাহে নতুন করে নদীগর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে তিন ফসলের জমি, রাস্তা মসজিদ ও কবরস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ভাঙনের মুখে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তারা দ্রুত টেকসই মজবুত নদী শাসন চায়।
দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকার নদী শাসন আন্দোলনের সদস্য সচিব মো. জামাল মুন্সি বলেন, অপরিকল্পিত জিওব্যাগ ফেলানোর কারণে তা কোনো কাজেই আসছে না। ফলে বস্তাগুলো এখন নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রাশাসনের কাছে দাবি করে আসছি যেন শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ হতে জিওব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হয়; কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের কথায় কর্নপাত করেনি। তারা ভরা বর্ষায় যখন নদী ভাঙন শুরু হয় তখন জরুরিভিত্তিতে নদীর তীর ঘেঁষে উপরিভাগে জিওব্যাগ ফেলে; যা তেমন কোনো কাজেই আসেনা। আমরা দ্রুত টেকসই মজবুত নদী শাসনের দাবি করছি।
স্থানীয় লোকমান ও মজিদ সরদার, আমেনাসহ কয়েকজন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর যাবত এখানে জিওব্যাগ ফেলে নদীর ভাঙন রোধ করা হয়। কিছুদিন আগেও কয়েকজনে মিলে কয়েক হাজার জিওব্যাগ ফেলেছে নদী ভাঙন রোধ করার জন্য। আজ হঠাৎ করে সেই জায়গা থেকেই নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। সব জিওব্যাগ নদীতে চলে গেছে। নদী ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে এই এলাকার কয়েক হাজার লোক। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ীভাবে নদী শাসন চাই।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুল রহমান বলেন, নদী ভাঙনের খবর পেয়েছি। আমরা নদী ভাঙন স্থান পরিদর্শন করব। যদি প্রয়োজন মনে হয় তাহলে জিওব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন রোধ করব। যদি প্রয়োজন মনে না হয় তাহলে সেখানে জিওব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন রোধ করব না। আমাদের বাজেট কম।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, নদী ভাঙন বিষয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। তারা তাদের ঊর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী ভাঙন স্থানে কাজ শুরু করবেন।