
মোঃ আমিরুল হক : সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া আর নতুন স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় দুইয়ের সমন্বয়ে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ অর্জনকারী ২০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার দিকনির্দেশনা দিতে আয়োজন করা হয় ‘সফলতার গল্প বলি’ শীর্ষক সেমিনার।
গত শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিক্ষা, মানবসেবা ও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বহরপুরের রুহামা ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ক্যাডেট এহসানুল হক তাহসিন, বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আল সাবা, রাকিবুর জাহান রিয়াদ, তৌহিদ শেখ, অমিতাভ দাস ও মোহাম্মাদ ফাহিম, বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তানসিয়া নুর তিশা, সামিরা আক্তার, লামিয়া আক্তার তিশা, বৈশাখি আক্তার, আবিদা সুলতানা, জয়া ভদ্র, মারিয়া আক্তার ও ঐশি কুন্ডু এবং রামদিয়া বিএমবিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের আশীর্বাদ সাহা চন্দ্র, অবন্তী পাল স্বর্ণ, প্রত্যয় পাল, সিদ্ধার্থ সাহা অরিত্র, উপমা পাল ও জান্নাতুল ফেরদৌসকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে রুহামা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আকিজ গ্রুপের পরিবেশক আরাফাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় মানপত্র ও স্কুলব্যাগ।
অনুষ্ঠানে রুহামা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বহরপুর হাট জামে মসজিদের ইমাম খালেদ সাইফুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও বহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনা প্রধান অতিথি হিসেবে দেশসেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার মোদক, বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ারুল ইসলাম খান (দুলাল), আকিজ গ্রুপের পরিবেশক হারুন অর রশিদ, অ্যাড. শামিম আহম্মেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সুধীজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শুধু জিপিএ-৫ নয়, প্রয়োজন মানুষ হিসেবে বড় হওয়া,‘সফলতার গল্প বলি’ সেমিনারে বক্তারা বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তবে এটিই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়। একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
তারা বলেন, জীবনে সফল হতে হলে এখন থেকেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের যথাযথ ব্যবহার, প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রয়োগ এবং নিজের দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তার নিজের কিংবা পরিবারের জন্য নয়; সেই সাফল্য সমাজ ও দেশের জন্যও কাজে লাগাতে হবে। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার মানসিকতা তৈরি করাই হওয়া উচিত শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষার পাশাপাশি স্বাবলম্বিতার লক্ষ্য,আয়োজক রুহামা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি মানবসেবা, শিক্ষা ও দাওয়াহভিত্তিক কার্যক্রমে নিয়োজিত একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালে শায়েখ সাইফুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফাউন্ডেশনের ঘোষিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে দরিদ্র ও অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান, শিক্ষা বিস্তার, কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অসহায় ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং এতিম ও বিধবা নারীদের সহায়তা। পাশাপাশি দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রমও পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।
রুহামা ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনায় ‘রুহামা স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতিবছর অন্তত ১০ হাজার অসহায় ও বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এ ছাড়া কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার প্রসার, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
আয়োজকদের ভাষ্য, শুধু ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করাই নয়, বরং তাদের স্বপ্ন দেখানো, লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তাদের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রেরণাও জোগাবে।
