বালিয়াকান্দির ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা

লেখক:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

মোঃ আমিরুল হক/ সোহেল খান : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের পদোন্নতিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ হলরুমে বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমান আতিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বালিয়াকান্দিতে দায়িত্ব পালনকালে আমি সবসময় চেষ্টা করেছি সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে। এ কাজে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া প্রশাসনের কোনো কাজই সফলভাবে করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বালিয়াকান্দির মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা আমি সবসময় মনে রাখব। কর্মজীবনে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও বালিয়াকান্দিতে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। এখানকার মানুষের জন্য আমার শুভকামনা থাকবে সবসময়।”
চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ বলেন, “ইউএনও হিসেবে চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান সবসময় কৃষক ও কৃষি বিভাগের কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁর সহযোগিতা ও সমন্বয় আমাদের কাজকে সহজ করেছে। তাঁর নতুন কর্মস্থলে আরও সফলতা কামনা করছি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের বিষয়ে তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর মধ্যে যে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ দেখেছি, তা প্রশংসনীয়। তাঁর পদোন্নতি আমাদের জন্য আনন্দের হলেও বিদায়টি অবশ্যই বেদনাদায়ক।”
বালিয়াকান্দি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল আলীম আল রাজি বলেন, “চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আচরণে একজন দক্ষ ও মানবিক প্রশাসকের পরিচয় পাওয়া গেছে। বালিয়াকান্দির মানুষ তাঁর কর্মময় সময়কে দীর্ঘদিন মনে রাখবে।”
বালিয়াকান্দি উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সনজিৎ কুমার দাস বলেন, “চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের সময়ে সাংবাদিকরা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।”
জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, “একজন ইউএনও হিসেবে তিনি যেমন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তাঁর পদোন্নতি তাঁর কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি।”
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান মিয়া লিটন বলেন, “বালিয়াকান্দির উন্নয়ন ও জনস্বার্থে তিনি যেভাবে কাজ করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। দায়িত্বের প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল।”
এসময় অন্যান্যর মধ্যে বক্তৃতা করেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মানবেন্দ্র মজুমদার, উপজেলা প্রকৌশলী রেজওয়ান খান নাফিজ, বালিয়াকান্দি থানার প্রতিনিধি এসআই অমল সরকার, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ জাফর আলী মিয়া, বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ আমিরুল হক, শহিদুল ইসলাম মিয়া মিলন, সাংবাদিক ইমদাদুল হক রানা, পারভেজ মিয়া, সাথী, উপজেলা প্রেসক্লাবের গোলাম মর্তুবা রিজু, দৈনিক সকালের সময়ের জেলা প্রতিনিধি সমীর কান্তি বিশ্বাস সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বালিয়াকান্দিতে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন। তাঁর দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব মনোভাব বালিয়াকান্দিবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। “সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের সম্পর্ক ছিল আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ। উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।”
অনুষ্ঠান শেষে বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানকে ফুলের তোড়া ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।