আগামী বছরের মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন হবে : ২৪ জেলার ৭ কোটি মানুষ সুফল ভোগ করবে

লেখক:
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 0;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 49;

সোহেল রানা : পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ একটি মাস্টার মাইন্ড প্রকল্প যার সুবিধা পাবে দেশের ২৪ টি জেলার অন্তত ৭ কোটি মানুষ। শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী একথা বলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ, নদীর প্রবাহ পুনরুজ্জীবন, নাব্যতা রক্ষা, মানবসম্পদ ও দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের পানির নিরাপত্তা জোড়দার করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।
এ সময় তিনি আরো বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারী ও মার্চের মধ্যে একটি নির্ধারিত তারিখে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতি সংঘে বাংলাদেশের স্বার্থে পানির চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন। একই কায়দায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সময় পানি ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্ত আনতে সচেষ্ট তিনি ছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে সরকার। সেই সাথে সারাদেশের প্রান প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে খাল খনন করা হচ্ছে।
পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকুড়ি এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের সময় পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাড. লিয়াকত আলী বাবু, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, রাজবাড়ী জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, এ ব্যারেজটির স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকে। বাংলাদেশের ২৪টি জেলার ৭ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে আমরা এ স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ করছি। এ এলাকার মানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটা মেঘা প্রকল্প পদ্মা ব্যারেজ অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিপ্লবের জন্য ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এটা আধুনিক প্রকল্প। ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খলেজা জিয়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা করেন। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমে একটি স্ব নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দেশের পানি, বিদুৎ, মৎস্য, কৃষি উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পদ্মা নদীর উদ্বৃত্ত পানি সংরক্ষণ করা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা। পরে হাবাসপুর কেরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখেন অতিথিরা।
এর আগে গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমটির সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ৭৮ টি স্পিলওয়ে, ১৮ টি আন্ডার স্লুইসগেট, ২ টি ফিশপাস, এবং নেভিগেশন লক সমৃদ্ধ এই ব্যারেজটিতে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষনের পরিকল্পনা রয়েছে, থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লক্ষ্য টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। যার সম্পন্ন অর্থায়ন করবে সরকার।
এদিকে রাজবাড়ীবাসির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মা ব্যারেজটি বাস্তবায়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে রাজবাড়ীর মানুষ।
প্রকল্পের আওতায় ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণ, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থার ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থার ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনর্খনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মোট ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ২টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।