গোয়ালন্দে প্রশাসনের দায়সারা ভাব বাড়ছে চোরাই সার বিক্রি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ দিন আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় সার বিতরণে তীব্র বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। ডিলার সিন্ডিকেটে অবৈধভাবে সার বিক্রি হচ্ছে অন্য জেলায়। যার ফলে কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। এতে আমন ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারীর অভাব এবং তাদের দায়সারা ভাবের কারণে এই সংকটের মূল কারণ। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ের বিসিআইসি ও বিএডিসি’র ৫ জন ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা খুচরা ডিলারদের নিকট সরকারি দামে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সার বিক্রি করেন না। তাছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে সবাইকেই সার দেন না। সার নেই এই অজুহাতে বস্তা পতি ১০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সার বিক্রি করেন। এছাড়া অতিরিক্ত দামে জেলার বাইরে খুচরা বিক্রেতাদের নিকট সার বিক্রি করলেও প্রশাসনের কঠোর নিয়ম না থাকায় এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা।
সম্প্রতি মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স থেকে সার বিক্রি করা হয় পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার সদর থানার ঈশান গোপালপুর এলাকার কোব্বাত নামে এক খুচরা বিক্রেতার নিকট সার বিক্রি করেন। এ-সময় স্থানীয় কৃষকরা সার আটকায়। এই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঘটনা স্থলে গিয়ে বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কৃষি কর্মকর্তা ঘটনা স্থলে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় দেলোয়ার নামে এক ব্যাক্তি ঘটনা স্থলে পৌঁছে সন্ত্রাসী কায়দায় সার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার সমস্ত ভিডিও প্রমাণাদি থাকার পরও কৃষি কর্মকর্তা একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন বলে জানান এবং তদন্ত চলছে বলে দায়সারা উত্তর দেন অথচ ঘটনাস্থলে ২০-৩০ জন লোক উপস্থিত ছিল।
এছাড়া গত ১৮ আগষ্ট অবৈধভাবে সার পাচারের সময় এক ডিলারকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও সার পাচারের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া কয়েকদিন আগে মুন্সি বাজার এলাকায় চোরাই সার বিক্রির সময় ধরা পড়লে সেই সার জব্দ করে উপজেলায় নিয়ে আসা হয় বিক্রি করা হয় মন্ডল ট্রেডার্স এর কাছে। অথচ মন্ডল ট্রেডার্স’র বিরুদ্ধে এর আগে ওই এলাকার কৃষকরা মানববন্ধন করায় দুই মাস সার বিতরণ বন্ধ রেখে অদৃশ্য কারণে তাকে আবারও সার দেওয়া হয়।
এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের অবস্থা একই। উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে বাইরে সার বিক্রির অভিযোগ। ঈশান গোপালপুর এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন তারা প্রয়োজনের সময় তার কাছ থেকে সার ক্রয় করেন। নজরুল মুঠো ফোনে বলেন কৃষকরা মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে আমি তাদের কাছে কীটনাশক বিক্রি করলেও সার বিক্রি করি না।
ছোট ভাকলা ইউনিয়নের দ্বায়িত্বে সপ্তবর্না ট্রেডার্স’র বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা ডিলারদের নিকট থেকে বেশি দামে সার বিক্রি করে থাকেন। অধিকাংশ খুচরা ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, বস্তা প্রতি বেশি দাম না দিলে সার দেন না। অনেক সময় সার নেই বলে বাইরে বিক্রি করে দেন। বিশেষ করে ১ হাজার ৫০ টাকার এমওপির দামও বস্তায় ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হয় এবং অনেক সময় সার দেওয়া হয়। এছাড়া স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের নিকট সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে সাহা ট্রেডার্স এর বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের অভিযোগ, তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার ও অবৈধ সার বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট সার বিতরণ, বিক্রি ও ইচ্ছামতো দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে সারের ৫০ কেজির বস্তা কিনতে স্থানভেদে কৃষককে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে হাজার টাকা। অথচ মাসে মাসে জেলা-উপজেলার সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির বৈঠকে দেখানো হচ্ছে সারের কোনো সংকট নেই, দামও বাড়েনি। কিন্তু মাঠের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, সিন্ডিকেট খুবই শক্তিশালী। ভেতরে ভেতরে চলে টাকার খেলা। অসাধু ডিলারদের সঙ্গে এলাকার কৃষি কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি লাখো কৃষক। সিন্ডিকেট ভাঙতে এগিয়ে আসেননি জেলা মনিটরিং কমিটির কর্মকর্তারা।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সার ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া মন্ডল ট্রেডার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।