
স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো চিকিৎসক পরপর তিন দিন সময়মতো কর্মস্থলে আসা-যাওয়া না করলে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন না এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর পরিপন্থি।
এ অবস্থায় হাসপাতালের সব কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জন এবং ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারদের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, চিকিৎসকদের দৈনিক হাজিরা রেজিস্টার ও বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। কোনো চিকিৎসক পরপর তিন দিন যথাসময়ে কর্মস্থলে আগমন ও প্রস্থানে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ ইস্যু করা হবে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক ও হাজিরা মনিটরিং করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে তা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, রোগীদের যথাযথ ও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাজিরা রেজিস্টার ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিয়মিত উপস্থিতি মনিটরিং করা হবে। কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নিয়মিত দেরিতে আসা বা নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
