রাজবাড়ীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহাদেবের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের

লেখক:
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

স্টাফ রিপোর্টার : সুদের টাকা পরিশোধের পরও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরীর মাধ্যমে এক নারী উদ্যোক্তার কাছ থেকে দোকানের মালিকানা দাবীর অভিযোগে রাজবাড়ী বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও রাজলক্ষী জুয়েলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী মহাদেব কর্মকারের আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। রবিবার রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন নারী উদ্যোক্তা ও আস্থা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী জাকিয়া সুলতানা। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহাদেবের নিকট থেকে মাসিক সুদে ১০ লক্ষ টাকা ধার নেন জাকিয়া জাকিয়া সুলতানা। পরবর্তীতে ৩০/০৬/২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জাকিয়া সুলতানা ১৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা সুদ সহ সুদাসল মিলিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ২৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ধার গ্রহণের সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহাদেব ওই নারী উদ্যোক্তার বেশ কয়েকটি নন-জুডিসিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে রাখে। কিন্তু টাকা পরিশোধের পরও মহাদেব কাগজপত্র ফেরত না দিয়ে নিজের কাছে গচ্ছিত রাখে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কাপড় বাজারে সংঘটিত অনাকাঙ্খিত ঘটনার সুযোগ নিয়ে উক্ত মহাদেব কর্মকার গত ৬ সেপ্টেম্বর ওই নারী উদ্যোক্তাকে কাপড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের ৩য় তলার দোকান ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান ও হুমকি প্রদর্শন করে।
অভিযোগ রয়েছে, একই দিন রাত ৯ টার দিকে মহাদেব কর্মকার সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা কাপড় ব্যবসায়ী বাতেন বেপারী গংদের কাছ থেকে ক্রয়কৃত জাকিয়া সুলতানার দোকান ঘরের সিসি ক্যামেরা ভাংচুর, জাকিয়া সুলতানার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক কর্মচারীদের দোকান ঘর থেকে বের করে দিয়ে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনার বিষয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর জাকিয়া সুলতানা নিজে রাজলক্ষী জুয়েলার্সের কাপড় বাজারের শোরুমে দেখা করে সকল কাগজপত্র ফেরত ও দোকান ঘর খুলে দেওয়ার দাবী জানালে মহাদেব তা প্রত্যাখ্যান করে।
জাকিয়া সুলতানা জানায়, মহাদেব কর্মকারের কাছে দোকান ঘরটি খুলে দিতে অনুরোধ করলে মহাদেব কর্মকার আমার কাছে একগুচ্ছ কাগজপত্রের ফটোকপি তুলে দেয়। এসময় সে উল্লেখ করে দোকান ঘর টাকা দিয়ে কিনেছি, তুমি ভাড়া নিয়েছো এখন ভাড়াও দিচ্ছনা, পুরো টাকা পরিশোধ করলে তবেই দোকান ঘর খোলা হবে। আসামী এই কথা বলে নিজ হাতে সুদের টাকা হিসাব করে ১৫ দিনের মধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান না করলে দোকান ঘর খুলে দেওয়া হবেনা এবং মালিকানাও ফেরত দেওয়া হবে না মর্মে জানায়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জাকিয়া সুলতানা গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে দন্ডবিধি আইনের ৪০৬/৪২০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণপূর্বক রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জাকিয়া সুলতানা জানায়, তিনি রাজবাড়ী জেলার অনগ্রসর নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিয়োজিত এবং সরকারীভাবে স্বীকৃত একজন নারী উদ্যোক্তা। গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত রাজবাড়ী জেলার একটি অন্যতম বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন “আস্থা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা” এর সভানেত্রী। তার প্রত্যক্ষ তত্তাবধানে পরিচালিত সংগঠনটি ২০২১ সালে জয়িতা ফাউন্ডেশনে সমিতি উদ্যোক্তা হিসেবে নিবন্ধন লাভ করে। নালিশকারী ব্যক্তিগতভাবে ২০২০ সালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে উপজেলা পর্যায়, জেলা পর্যায় ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। নালিশকারীর পরিচালনাধীন আস্থা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার আস্থা সুচী শিল্প দেশের হস্ত শিল্পের বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক-আড়ং পরিবারের সাথে সহযোগী হিসেবে নিজেদের দক্ষতা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে। নালিশকারীর পরিচালনাধীন “আস্থা ক্রিয়েশনস, বাংলাদেশ” গ্রামীণ নারীদের হস্তশিল্পের উৎপাদিত পণ্য সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে হোম ডেলিভারীর সুযোগ সৃষ্টির একটি অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্নধার হিসেবে তিনি ২৬ টি সাব সেন্টারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের আড়াই হাজার অনগ্রসর নারীকে নিয়ে সূচী শিল্প সহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাজবাড়ী পৌরসভার বাণিজ্যিক লাইসেন্স গ্রহণের মাধ্যমে রাজবাড়ী বাজারে বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও বিপননের কাজ সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছে।
জাকিয়া সুলতানা আরও জানায়, ২০১২ সালে প্রাথমিকভাবে ভাড়া নিয়ে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজারে হস্তশিল্পের বিক্রয় কেন্দ্রে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে রাজবাড়ী পৌরসভাধীন বিনোদপুর মৌজাধীন ৭৪৯ নং খতিয়ানের ১৬২৮/১৬২৯ নং দাগে অবস্থিত (হোল্ডিং নং-৫৭০/১৭৫) কাদেরীয়া সুপার মার্কেটের ৩য় তলার ২৩ নং দোকান ঘর মোঃ আব্দুল বাতেন বেপারী গং এর নিকট থেকে বৈধ চুক্তিমূলে পজিশন নিয়ে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।