
সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে গেলেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। এসময় তিনি অসুস্থ বিথীর ৫ মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি।
এ সময় তিনি অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
ডিসির এ মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অসুস্থ বিথীর স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন অফিসারকে এভাবে এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. সাইফুল হুদা, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট ডা: মো: আশিকুজ্জামান।
জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ডা. তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের পর বিথী আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। বর্তমানে বিথী ঢাকা হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন বলেন, বিথী আক্তারের বিষয়টি জানার পরে বাচ্চা ও তাদের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বাড়িতে ইউএনও সাহেব এসেছিল এবং তাকে দেখে গেছে ও কিছু উপহার সামগ্রী-নগদ অর্থ আমরা দিয়েছি। আজকে আমি দেখতে এসেছি, পাশাপাশি আমরা সরকারকে অবহিত করবো যেন কোথাও থেকে আমরা কোন সহযোগিতা দিতে পারি সেটা চেস্টা করবো।
