



সোহেল রানা : রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর গ্রামের চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও ৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের মোঃ দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মোঃ গনি সরদারের ছেলে মোঃ রিয়াজ সরদার (২৩), সমেসপুর গ্রামের মোঃ সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে মোঃ শরীফ (২৭)। এদিকে, শনিবার দুপুরে উত্তেজিত জনতা রোহান হত্যার বিচার দাবীতে বিক্ষোভ সহ আলাল সরদার, লাল চাঁদ সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিং করেন, রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।
তিনি বলেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রোকন উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে মোঃ ফরহাদ চৌধুরী এজাহার দায়ের করেন গত ০৫ অক্টোবর বিকাল ৪টার সময় তার ছেলে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন কল পেয়ে রাজবাড়ী জেলার দাদশী ইউনিয়নের ধুলদী রঘুনাথপুর নিজস্ব বসতবাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় তার পরিবার গত ০৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৯১) করেন। পরে গত ০৮ অক্টোবর বিকাল ৫টার সময় দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোঃ ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। রাজবাড়ী সদর থানায় গত ০৯ অক্টোবর মামলা রুজু হয়। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যপক আলোড়ন তোলে ও দাদশী ইউনিয়নের অধিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ সংবাদ প্রাপ্তির পর কোন বিলম্ব না করে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্তে নামে ও বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ চৌকস আভিযানিক দল রাজবাড়ী জেলার দাদশী ইউনিয়ন ও তার আশেপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টার সময় ফিরোজ সরদার বাবু, মোঃ রিয়াজ সরদার, মোঃ শরীফ মন্ডলদের গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্তে পূর্ব শত্রুতা ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ যেন ভেসে না উঠে সেজন্য ধারালো চাকু দিয়ে পেট কেটে আলামত লোপাট ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে বালু ভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের দেখানো মতে ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুড়ি ও গামছা ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ হতে, শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট মোঃ রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ হতে এবং রোহানের পরিহিত স্যান্ডেল দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে হতে উদ্ধারপূর্বক করে জব্দ করা হয়। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আসামী গ্রেপ্তারের খবরে উত্তেজিত এলাকাবাসী ফুয়াদ চৌধুরী রোহান হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবী করে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। পরে আলাল সরদার, লাল চাঁদ সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফয়জুর রহমান, রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মফিজুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাসহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফয়জুর রহমান বলেন, ফুয়াদ চৌধুরী রোহান হত্যার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বিচার দাবী করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। তারা ৩টি বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে। জেলা পুলিশের সদস্য, ফায়ার সার্ভিস সহ আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।
