পদ্মায় তীব্র নাব্য সঙ্কট : জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা

লেখক:
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা নদীতে তীব্র নাব্য সঙ্কটের কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুট। যে কারণে দক্ষিনাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এ রুট দিয়ে চলাচলকারী অন্তত দশটি জেলার কয়েক হাজার মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। জরুরী প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও স্পীডবোর্ডে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুতই শুরু হবে ড্রেজিং আর ড্রেজিং সম্পন্ন হলেই চালু হবে ফেরি চলাচল।
এর আগে জৌকুড়া নাজিরগঞ্জ নৌরুটে যাত্রি সেবার মান বৃদ্ধি করতে ঘাটটিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০২২ সালে নভেম্বর মাসে হস্তান্তর করে বিআইডব্লিউটিসির কাছে। যাত্রী সেবার মান বাড়েনি বরং বেড়েছে ভোগান্তি। অচিরেই ড্রেজিং কার্যক্রম করে ঘাটটি চালু করা হবে এমনটিই দাবি এই অঞ্জলের যাত্রীদের।
জানাগেছে,দক্ষিণাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের সহজ মাধ্যম রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুট। এ নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, নাটোরসহ বেশ কয়েকটি জেলার অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় জৌকুড়া ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ছেড়ে যাওয়া ফেরি ক্যামেলিয়া নাব্য সঙ্কটে আটকা পরে মাঝ পদ্মায়। শত চেষ্টা করেও নদীর ওপারে যেতে পারেনি ফেরিটি। পরে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয় এ রুটে ফেরি চলাচল।
জৌকুড়া নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার যাত্রী। যাত্রীরা জানান, পদ্মার চরে জেগে উঠেছে বহু চর। যে কারণে ফেরি চলাচল ঝুঁকিপুর্ন। এছাড়াও পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে গত এক মাসে দুই দফায় ১৩ দিন বন্ধ ছিলো এ রুটের ফেরি চলাচল। এতে কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন তারা।
যাত্রীরা আরো জানান, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে ট্রলার ও স্প্রীড বোর্ডে। এতে দ্বিগুন অর্থ ব্যায় হচ্ছে। এছাড়াও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় পন্যবাহি ট্রাকগুলোকে অন্তত ১৬০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে কুষ্টিয়ার লালন শাহ সেতু হয়ে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে। এতে বাড়ছে পন্য পরিবহন ব্যায়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী ব্যাবস্থাপক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, পদ্মায় তীব্র নাব্য সঙ্কটের কারণে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নাব্য সঙ্কটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে। ড্রেজিং কার্যক্রম শেষ হলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।