ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের ঘটনায় অসুস্থ বিথীর পরিবারের পাশে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন

লেখক:
প্রকাশ: ২ দিন আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মেয়ে বিথী আক্তার ফরিদপুর মেডিক্যালে পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের ঘটনায় তার পরিবারের পাশে অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে দাড়িয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলা এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে উপস্থিত হন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা। এ-সময় তার সাথে ছিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান।
ডিপ্লোমা নার্স বিথী আক্তার (২৪) উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধা পাড়ার ছোরাপ মণ্ডলের মেয়ে। গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। অপারেশনের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দু অসাবধানতবশত পেটের ভিতর গজ রেখেই সেলাই করে দেন। দুই মাস পর পেটে তীব্র যন্ত্রণা হলে আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। ততদিনে পেটের ভিতরের নাড়ি পচে যাওয়ায় সেখানে বাইপাস সার্জারি করতে হয়।
বিথী আক্তারে ওজন ৬১ কেজি থেকে ৩৯ কেজি হয়ে গেছে এখন তিনি নিজের সন্তানকে কোলে নেওয়া বা খাওয়াতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির জন্য দুধ ও ডাইপারসহ অন্যান্য সামগ্রী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাছাড়া জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থনৈনিতক সহায়তা করা হয়। এ-সময় শিশুটি মায়াবী চেহারা সবার হৃদয় কারে।
মুঠো ফোনে বিথী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ফরিদপুর মেডিক্যাল থেকে তার প্রতি এখনো কোন যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল হলে তৎক্ষনাৎ তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল সহ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যাবস্থা নিতেন কিন্তু সকল মিডিয়ায় খবর আসার পরও আমার চিকিৎসার কোন ব্যাবস্থা করছেন না কিংবা দোষীদের ব্যাপারে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না। এ-সময় ফোন তার বাচ্চার ছবি দেখে আবেগে আপ্লূত হয়ে উঠেন বিথী।
বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী বর্তমাসে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। চিকিৎসার সব নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট সংরক্ষিত রয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, উন্নত চিকিৎসার নিশ্চয়তা ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, আমরা প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা অবগত হই। এটা দুঃখজনক ঘটনা। আজ তার শ্বশুর বাড়িতে এসে আমরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কিছু সহায়তা প্রদান করালাম। তাছাড়া রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে যোগাযোগ করেছেন তার চিকিৎসার যেন কোন ঘাটতি না হয় সে ব্যাপারে আলোচনা করছেন। তাছাড়া বিথী আক্তারের চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সর্বদাই নজর রাখছি।