নিরাপত্তায় প্রশাসনের বিশেষ নজর : গোয়ালন্দে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

লেখক:
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) বিকাল সারে ৩ টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা। এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবলু, গোয়ালন্দ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ সভাপতি সাধন কুমার সাহা,সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র ঘোষসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের নেতৃবৃন্দ উক্ত প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন, পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজার সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এসময় পূজা উদযাপন কমিটিকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন, শারদীয় দুর্গাপুজা উপলক্ষে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, পূজা উদযাপনকালে প্রতিটি পূজা মন্ডপে আনসারদের ফোর্স নিয়োজিত থাকবে, পূজামণ্ডপের সার্বক্ষণিক সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পূজামন্ডপের নিকটবর্তী স্থানে আনসার সদস্য-নিরাপত্তা কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থা, বিজয়া দশমীর দিনে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা বিসর্জনসহ প্রত্যেক পূজামণ্ডপে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় প্রশাসন, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি এবং ফায়ার সার্ভিসের টেলিফোন নম্বর-মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে, প্রতিটি পূজামন্ডপে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক প্রবেশ ও নির্গমন পথ রাখতে হবে, শারদীয় দুর্গা উৎসব চলাকালে পূজামন্ডপ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ পূজামন্ডপে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে, সংশ্লিষ্ট পূজা উদ্যাপন কমিটিসমূহকে পূজামণ্ডপের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এবং পাহারাদার (পালাক্রমে দিনে কমপক্ষে ৩জন এবং রাতে ৪জন) নিয়োজিত করতে হবে, আযান ও নামাজের সময়ে পূজামন্ডলের শব্দ যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। তাছাড়া আনসারদের থাকা ও খাওয়ার ব্যাবস্থা নিশ্চিত করা সহ ২৪ ঘন্টা সেখানে রাখার ব্যাবস্থা করতে হবে।
সভা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।