পাংশায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলাকে মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

লেখক:
প্রকাশ: ১৮ ঘন্টা আগে

এস,কে পাল সমীর : রাজবাড়ীর পাংশায় মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন নামের এক ভেটেরিনারি চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের বিলচত্রা গ্রামে নিজ বাড়িতে মামলাটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তার বাবা বিলচত্রা গ্রামের মৃত কুরবান আলীর কাছ থেকে ১৩. ৫০ শতাংশ জমি কেনেন। পরবর্তী সময়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হলেও ৪.৫০ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ। কুরবান আলীর মৃত্যুর পর তার ছেলে ওহেদুজ্জামান ওরফে ওলপেদ ওই জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
জসিম উদ্দিন বলেন, গত ২৭ আগস্ট ওহেদুজ্জামান জোরপূর্বক ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় আমার বাবা পাংশা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। থানায় বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হলেও উভয় পক্ষের বসার আগেই প্রতিপক্ষ চলে যান।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেন তিনি। পাংশা থানা থেকে নোটিশ জারি করা হলেও আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ ওই জমিতে টিনের বেড়া ও ঘর নির্মাণের কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হয়রানি ও ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ওহেদুজ্জামান তার কথিত ভাতিজিকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করিয়েছেন। মামলাটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন জানান, মামলার বাদী ওই নারী এর আগেও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছিলেন, যা অর্থের বিনিময়ে সমাধান করা হয়। এ ছাড়া ওই নারীর একাধিক বিয়েও হয়েছিল বলে বক্তব্য দেন তিনি। বর্তমানে তিনি পঞ্চম স্বামীর ঘর করছেন।
এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানদার মো. আনিসুর রহমান ও মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, আশপাশে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমন ঘটনা ঘটলে আমরা অবশ্যই জানতাম। অভিযুক্ত ওহেদুজ্জামান ও মামলার বাদী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই), ফরিদপুরের উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় দে বলেন, “এ মামলায় এখনো তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”