গোয়ালন্দে খাল পুনঃখননের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান
লেখক:
প্রকাশ: ৫৫ minutes ago
সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস উপজেলার দুটি পুনঃ খালখনের উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন। সম্প্রতি বদলী হওয়া সাথী দাস উপজেলায় ভালো কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন বারবার। কিন্তু যাবার আগে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন তিনি। যেখানে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ অথবা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর প্রচলিত প্রবণতার বিপরীতে এক ব্যতিক্রমী ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। সততা, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও সুশাসনের এই অনন্য উদাহরণ স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যপক প্রশংসিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার হাবিল মন্ডল পাড়া এবং গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত দুটি পৃথক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রায় তিন মাসব্যাপী পরিচালিত এই সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২.৬১ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
প্রকল্প দপ্তর জানায়, দুটি খালের পুনঃখনন কাজের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬২ টাকা। নিবিড় মনিটরিং ও হিসাবের সঠিক বন্টন নিশ্চিত করায় প্রকল্পের শতভাগ কাজ মানসম্মতভাবে শেষ করার পরও ৯ লাখ ৯৭৬ টাকা বেঁচে যায়, যা অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের তদারকি প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম নিয়মিত এই কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ ছাড়া খালের কাজের গুণগত মান সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। তারা উভয়েই কাজের সঠিক মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উজানচর ইউনিয়নের প্রকল্প সদস্য রাসেল মাহমুদ ও ফরিদুর রহমান জানান, ইউএনও স্যার নিয়মিত প্রকল্প এলাকায় এসে নিজেই সরাসরি কাজের তদারকি করেছেন। প্রকল্পের কোনো স্তরে যেন বিন্দুমাত্র অনিয়ম বা অনাকাঙ্ক্ষিত অসচ্ছতা না ঘটে, সেদিকে তাঁর কঠোর নজরদারি ছিল।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলজার হোসেন মৃধা মন্তব্য করে বলেন, পুরো প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। খেটে খাওয়া শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ধরনের বিল ও খরচ যথাযথ নিয়ম মেনে পরিশোধ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিটি পদক্ষেপে শতভাগ স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা। সরকারি প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেই আমরা কাজ শেষ করেছি। প্রকল্প শেষে যা বেঁচেছে, তা নিয়ম মোতাবেক সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি বিশেষ প্রকল্প ছিল। আমাদের গোয়ালন্দ উপজেলার দুটি খাল দেশের প্রথম পর্যায়ে উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই আমরা কোনো অনিয়ম বা নয়ছয়ের সুযোগ দিইনি। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারই তো সুশাসনের আসল ভিত্তি। ফলে প্রয়োজনের বাইরে এক টাকাও অপচয় না করে উদ্বৃত্ত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সচেতন মহলের মতে, সরকারি উন্নয়ন কাজগুলোতে যদি এই ধরনের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় থাকে, তবে কাজের গুণগত মান যেমন অক্ষুণ্ণ থাকে, তেমনি রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক অনুকরণীয় ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।