পাংশায় মাদক-বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান ওসির
লেখক:
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে
মাসুদ রেজা শিশির : মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন রাজবাড়ীর পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পাংশা জর্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাংশা মডেল থানার উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাল্যবিবাহের কুফল, মাদক প্রতিরোধ ও সাইবার অপরাধ বিষয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, একটি দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। মাদকাসক্তি একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একইভাবে বাল্যবিবাহ শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং অল্প বয়সে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা গোপন তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য প্রচার, অনলাইন প্রতারণা, সাইবার বুলিং ও হয়রানি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
এ সময় তিনি ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো অপরাধ, মাদক ব্যবসা, বাল্যবিবাহ কিংবা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। জনগণ ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগেই নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ, সাইবার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাংশা মডেল থানা সবসময় পাশে থাকবে। আইনগত সহায়তা কিংবা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, আইন সম্পর্কে সচেতনতা এবং অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।