
স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীর পাংশায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে মোকতার হোসেন প্রামানিক নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। মোকতার হোসেন প্রামানিক পাংশা উপজেলার বৃত্তিডাঙ্গা গ্রামের মৃত মানিক প্রামানিকের ছেলে। রায় প্রদানকালে আসামী উপস্থিত ছিলেন না।
মঙ্গলবার রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ আদেশ দেন।
আদালতের তথ্যমতে, খুশীনা খাতুনের সাথে মোকতার হোসেন প্রামানিকের সাথে বিবাহের পর থেকেই মোক্তার সহ অন্যান্য সকল আসামীরা খুশীনা খাতুনকে বাড়ী হতে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে। গত ২০১২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার সময় খুশীনা খাতুনের সাথে অযথা ঝগড়া বাঁধিয়ে খুশীনাকে তার পিতার বাড়ী চলে যেতে বললে খুশীনা রাজী না হলে আসামীরা রাগান্বিত হয়। আবুল খুশীনাকে মেরে ফেলার হুকুম দিলে মোকতার লাঠি দিয়ে খুশীনার ডান পায়ের হাটুর নীচে বারি মেরে হাড় ভাংগা গুরুত্বর জখম করে। আসামী আবুল খুশীনা খাতুনের গলা চেপে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অন্যান্য সকল আসামীরা খুশীনা খাতুনের বাম হাতের গিরা, ডান হাতের গিরা, পেটের উপরে ও নিচে আঘাত করে একাধিক রক্ত জমাট জখম সহ দুই রানের সামনের দিকে রক্ত জমাট জখম করে। মারপিট করে আসামীরা খুশীনা খাতুনকে মোক্তারের বাড়ীতে ফেলে রাখে। আসামীদের মারপিটের ফলে খুশীনা খাতুন রাত ২ টার সময় মারা যায়। কসবামাজাইলের ছবেদ ঢাকা যাওয়ার সময় বৃত্তিডাঙ্গা হতে খুশীনার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে খুশিনার বাবা সহ তার ছেলেদের জানালে তারা মোক্তারের বাড়ীতে গিয়ে খুশীনাকে মৃত অবস্থায় শোয়ানো দেখে। খুশীনার নাবালক পুত্র-কন্যা জানায় যে আসামীরা খুশীনাকে মারপিট করে সে কারণে তার মা মারা যায়। বাদীসহ তার ছেলেরা খুশীনার স্বামী মোক্তারের বাড়ীতে গিয়া আসামীদের কাউকে পায়না। পরবর্তীতে পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে খুশীনার লাশের সুরৎহাল রিপোর্ট তৈরী করে। লাশ মর্গে পাঠায়, পোস্ট মর্টেম হয়। পি,এম রিপোর্টে আঘাতের কারণে খুশীনা মারা গেছে। ঘটনার পর বাদীর পুত্র পাংশা থানায় অভিযোগ করলে থানা অপমৃত্যু মামলা করে। পি,এম রিপোর্টে আঘাতের কারণে খুশীনা মৃত্যুবরণ করেছে উল্লেখ থাকার পরেও পাংশা থানা কর্তৃপক্ষ আসামীর বিরুদ্ধে মার্ডার কেস রুজু না করায় খুশিনার বাবা বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের তথ্যমতে, মামলাটির স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আসামী মোকতার হোসেন প্রামানিকের বিরুদ্ধে আরোপিত ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ঞযব চবহধষ ঈড়ফব এর ৩০২ ধারার অধীন দন্ডনীয় অপরাধ সংঘটন করার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাকে অপরাধ সংঘটন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায়ের সময় আসামী মোকতার হোসেন প্রামানিক পলাতক ছিল।
আসামীপক্ষে আইনজীবি ছিলেন এ্যাডভোকেট মোঃ মোসলেম উদ্দিন খান ও রাষ্ট্রপক্ষে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক।
