গোয়ালন্দে মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় : অতিষ্ঠ জনজীবন

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড থেকে নিয়মিতভাবে আনা ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের একপাশে। এছাড়া পৌর এলাকার জবাই কৃত বিভিন্ন আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে। এতে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, ভুগছেন পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য প্রতিদিন মহাসড়কের ধারে ফেলে রাখা হয়। এর পাশেই রয়েছে গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিস। সেখানে কর্মরত লোকজন সহ প্রতিদিন এখানে যাতায়াত করে কয়েকশো লোকজন। এতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, দুর্গন্ধে টেকা দায়। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের নাক-মুখ চেপে ওই এলাকা পার হতে হয়। অনেক সময় দুর্গন্ধে বমি বমি ভাবও দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, চালক ও পথচারীরা।
সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে সড়কের ওপর ময়লা ফেলায় একদিকে যেমন বায়ু ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, তেমনি পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই দূর্ঘন্ধে আশে পাশের লোকজন টেকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এতে ছড়িয়ে পড়া জীবাণুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ। ময়লার দুর্গন্ধে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী, দোকানদাররা মারাত্মক দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।
পথচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ময়লার স্তূপে সারাদিন মশা-মাছি ভনভন করে। পঁচা-আবর্জনা আর সেগুলো পোড়ানোর ধোঁয়ার তীব্র গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। গাড়ি চালকরা স্তূপের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে ফেলায় বাতাসের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে। নাকে হাত দিয়ে চলতে হচ্ছে। এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
এছাড়া পাশেই মরা পদ্মা নদী থাকায় আবর্জনা সরাসরি নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে। এই নদীতে স্থানীয় লোকজন গোসল করা, জামাকাপড় ধোঁয়া ও গবাদিপশু ধোঁয়ানোর কাজ করে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে।
পথচারী মুসারফ ও অটোরিকশা চালক সাগর মোল্লা বলেন, এলাকাটায় এত বর্জ্য জমে থাকে যে হাঁটাচলা করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়া যায় না। কুকুর ময়লা রাস্তায় টেনে আনে, এতে অনেক সময় মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনাও ঘটে। বৃষ্টির সময় ময়লার পানি রাস্তায় মিশে আরও দুর্গন্ধ ছড়ায়।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাইফুল হুদা বলেন, আমি নতুন এসেছি। ডাম্পিং স্টেশনের কাজ কতোদুর হয়েছে বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে ময়লা আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলানোর ব্যাবস্থা করবো।