শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ জাতির দীনতার প্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বাসস : বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভোগান্তি নিরসনে যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, অবসরের টাকা পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের আর কোনো দপ্তরে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। জমানো এই অর্থ এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষকদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষকদের নিজেদের ন্যায্য পাওনা পেতে ঘুষ দেওয়ার বাধ্যবাধকতাকে তিনি ‘জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ’ বলে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা দানকারী শিক্ষকদের হয়রানি মুক্ত রাখা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ চার বছর পর তাঁদের জমানো টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফেরত পেয়েছেন। এই অর্থপ্রাপ্তির ফলে হাজার হাজার প্রবীণ শিক্ষকের জীবন থেকে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর চালু করা ‘শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারী শিক্ষা’ কর্মসূচি আজ বিশ্বজুড়ে একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে লুটপাটের কারণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’Ñএই দুটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফান্ডে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষকদের এই বকেয়া পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হবে না।” তিনি আরও বলেন, আগে টাকা পেতে ঘুষ দেওয়ার যে অঘোষিত নিয়ম চালু হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা কঠোরভাবে দমন করেছে। এখন অনলাইনের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। অবসর গ্রহণের পরেও শিক্ষকদের ভূমিকা সমাজে চিরকালীন এবং সর্বজনগ্রাহ্য বলে তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।