বালিয়াকান্দিতে গড়াই সেতুর নির্মাণের লক্ষে চায়না প্রকৌশলীদের পরিদর্শন

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

সোহেল রানা : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত নারুয়া-গোয়ালদহ সেতুর নির্মাণ প্রক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন গতি। নকশা চূড়ান্তকরণ ও আনুষঙ্গিক কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চায়নিজ কনসালটেন্স টিমের প্রকৌশলীগণ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার গোয়ালদাহ এলাকা থেকে নদীর পার ও খেয়া নৌকা যোগে নদী পার হয়ে নারুয়া খেয়াঘাট ও নারুয়া বাজার পরিদর্শন করেন। এসময় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলেন। স্থান পরিদর্শনের সময় সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা বিভাগ সদর দপ্তরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ এবাদত আলী, চায়না স্ট্রেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেডের সেতু প্রকৌশলী চেং কিং ও লাল কিং, রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদ হাসান এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী রেজওয়ান খান নাফিজ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ জাফর আলী মিয়া এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ তুহিনুর রহমান তুহিন, নারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওহাব মন্ডল, সভাপতি আলমগীর হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চুন্নুসহ এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন অর রশীদের বিশেষ রাজনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বর্তমান সরকার সেতুটি নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে রাজবাড়ীর সাথে আশেপাশের অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, যা স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গড়াই সেতুর।
প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক নথি থেকে জানা যায়, সেতুটি ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (২য় পর্যায়)’ ফেসিবিলিটি স্ট্রেজ ফর এমপ্রটেন্ট ব্রিজ কনস্ট্রাকশন অন রুরাল রোডস প্রজেক্ট) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নথিতে এর প্যাকেজ নম্বর ঋঝ/২২/২৩/ঝঝ১/০১ এবং রোড আইডি ৩৮২০৭২০১১ উল্লেখ রয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দির নারুয়া গ্রোথ সেন্টার (জিসি) থেকে ছাচিলাপুর জিসি গোয়ালদহ ঘাট সড়কের ৯০০ মিটার চেইনেজে গড়াই নদীর ওপর এ সেতুটি নির্মিত হবে। আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সেতুটির সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ৯৮০ মিটার। সেতুর ভূ-কারিগরি পরীক্ষার (এবড়ঃবপযহরপধষ ওহাবংঃরমধঃরড়হ) দায়িত্ব পালন করছে ঢাকার ফার্মগেট এলাকার ‘প্রো-সোয়েল ফাউন্ডেশন’। প্রকল্পটির আওতায় নদীতে ৬টি (৬০ মিটার গভীর) এবং স্থলে ৪টি (৫০ মিটার গভীর) সহ সর্বমোট ১০টি বোরিং সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে চায়নিজ কনসালটেন্স টিমের বিশেষজ্ঞরা জানান, নদীর গতিপথ, মাটির স্থায়িত্ব ও পারিপার্শ্বিক স্থানিক নকশা বিবেচনা করে দ্রুতই চূড়ান্ত ডিজাইন প্রস্তুত করা হবে। এর পরপরই এলজিইডি রাজবাড়ীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হবে।
সেতু বাস্তবায়ন ও ভবন ব্যবস্থাপনা বিভাগ সদর দপ্তরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ এবাদত আলী বলেন, এ ব্রীজটি অত্যন্ত জরুরী। আমরা ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করেছি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের প্রফেসররা এসেছিলেন। তারাও এখানে ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এ ব্রীজটি হলে মানুষের ৩৫ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে আসার কষ্ট, সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। এ কারণে আমরা চায়না প্রকৌশলীদের এখানে স্থান পরিদর্শনের জন্য এনেছি।