১৭ বছরে হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা ব্যাঙ্গের মত ক্লিনিক ও ডায়াগণষ্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহতের মূল কারণ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে


সোহেল রানা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চিকিৎসা অবহেলা কোন রকম বরদাস্ত করা হবে না। চিকিৎসা অবহেলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে তিন সন্তানের জননীর পেটে গজ রেখে সেলাই দেয়ার পর মৃত কনিকা রানীর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানোর জন্য ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে রাজবাড়ীর এক গৃহবধুর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি সিজার করার পর পেটে “গজ” রেখেই করা হয়েছিল সেলাই। যে কারণে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে। ৫৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা যান গৃহবধুর কনিকা মন্ডল। এ ঘটনার পর নিহতের বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রচলিত আইনে বিচার ও পরিবারটির পাশে দাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
নিহত কনিকা রানী মন্ডলের স্বামী অশান্ত কুমার মন্ডল বলেন, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরীতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন হয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গৃহবধু অশান্ত কুমার মন্ডলের স্ত্রী কনিকা রানী মন্ডলের। তার অপারেশনটি সম্পন্ন করেন চিকিৎসক লক্ষি রানী দত্ত। অপারেশন করার সাথে সাথেই এদিক সেদিক ছোটাছোটা আর হায়হতাশ করতেছিলেন ওই চিকিৎসক। এমনকি সব কাজ সম্পন্ন না করেই বেরিয়ে যান তিনি। এ সময় তার পর্যাপ্ত পরিমানের রক্তক্ষরন হতে থাকে। গত ৩ জুলাই তার পেটে ফুলে গেলে আবারো অসুস্থ্য হয়ে পড়লে নেওয়া হয় ঢাকায়। ভর্তি করা হয় ইবনে সিনা হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখাযায় পেটে গজ কাপড় রেখে করা হয়েছিল সেলাই। আবারো অপারেশন করে বের করা হয় সেই গজ কাপর। অবশেষে ৫৩ দিন পর ১৯ আগষ্ট মারা যান গৃহবধু কনিকা।
এলাকাবাসী জানান, সৃষ্টিকর্তার পরেই মানুষ চিকিৎসকদের বিশ্বাস করে সেই চিকিৎসকরাই যদি কসাইয়ের ভুমিকায় থাকবে মানুষের আর যাওয়ার যায়গা থাকে না। এখন ওই চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তারা। নিহত কনিকা রানী মন্ডল ও অশান্ত কুমার মন্ডল দম্পতির ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। আর কারো যেন ভুল চিকিৎসায় মৃত্য না হয় সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এদিকে এ ঘটনার পর শুক্রবার সকালে নিহত কনিকা রানীর বাড়িতে পরিদর্শনের আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। পরিবারের সহমর্মিতা জানাতে আমি এ বাড়ীতে এসেছি। এই পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের স্থানীয় বিএনপি নেতারা পাশে থাকবেন, পাশে থাকবে সরকার। গত ১৭ বছর স্বাস্থ্যসেবাকে যেভাবে ধ্বংস করেছে সেখান থেকে উত্তোরণে আমরা কাজ করছি। আমরা চাই স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দৌড়গোড়ায় পৌছে দিতে। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে এ পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছি। সরকার এ পরিবারের পাশে থাকবে এবং সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আধুনিকায়নের জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যা সাধারণ জনগন সুফল ভোগ করবে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় দেশীয় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত ১৭ বছরে হাসপাতালগুলোর সামনে গড়ে ওঠা ব্যাঙ্গের মত ক্লিনিক ও ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহতের মূল কারণ। ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। এগুলোর সমস্যা সমাধানে একটু সময় লাগবে। সারাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এসময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফারুক হোসেন, উপজেলা অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।