গোয়ালন্দে ঠিকাদারের গাফলতিতে মেয়াদ শেষ হলেও রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি

লেখক:
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

সিরাজুল ইসলাম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন সড়ক হতে উজানচর জিসি ভায়া ফকির পাড়া সড়কটির ইট উঠিয়ে খোয়া ঢেলে রাখা হয়েছে গত এক বছর ধরে। কাজের মেয়াদ ১ বছরের বেশি সময় ধরে শেষ হলেও কাজ ফেলে রেখে এ এলাকার কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গোয়ালন্দ উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন সড়ক হতে উজানচর জিসি ভায়া ফকির পাড়া সড়কটির ২ হাজার ৬৮৫ মিটার বিটুমিনাস কার্পেটিং কাজ করার জন্য চুয়াডাঙ্গার জাকাউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্স প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পায়। ২টি বক্স কালভার্টসহ সড়কটি নির্মানের চুক্তিমূল্য ৩ কোটি ৭৪ লক্ষ ৭ হাজার ২৫৪ টাকা। এর নির্মান কাজ ১৮-১০-‘২৪ তারিখ শুরু হয়ে আগামি ১৬-৫-‘২৫ তারিখের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এই রাস্তার কাজ পরে রয়েছে এবং কয়েকটি গ্রামের লোকের গলার কাটা এখন এই রাস্তাটি।
কাজটি চুয়াডাঙ্গার জাকাউল্লাহ এন্ড ব্রাদার্স পেলেও কিনে নেন স্থানীয় চৌধুরী ট্রেডার্স’র সালাউদ্দিন চৌধুরী। যিনি উপজেলার বেশির ভাগ কাজ এভাবেই ফেলে রেখে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার ( ২৯ আগষ্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয় লোকজন সেগুলো বেড়া দিয়ে সতর্ক করে রেখেছে। এ রাস্তাটি এখন অটোরিকশা সহ যানবাহন চলাচলের জন্য হুমকি স্বরূপ। অথচ এই রাস্তা দিয়ে উপজেলার দৌলতদিয়া তোরাপ শেখের পাড়া, যদু ফকির পাড়া ও সোনাউল্লা ফকির পাড়ার কয়েকশো লোকজন চলাচল করে। বেশির ভাগ লোকজন কৃষক হওয়ায় তাদের পন্য আনা-নেওয়ার জন্য ঘোড়ার গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে হয়। এসব বন্ধ থাকায় তারা ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন ফকির বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কয়েক গ্রামের লোকজন ছাড়াও আশে পাশের লোকজন বাজার হাটে যায়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া ঢল (বৃষ্টি) নেমে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে এর ফলে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
আফতার শেখ, কুদ্দুস বেপারী সহ কয়েকজন জানালেন বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় বেশ কয়েকবার বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানো হলেও ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া এখন পাটের সময় হওয়ায় অনেকেই বাজারে পাট নিতে পারছে না। রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মোঃ সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, কাজ দেরি হয়ে গেছে অনেক কারণে। কাজের সাইডে বৃষ্টি থাকার কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাছাড়া বিটুমিন সহ সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল বলেন, এ বিষয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। এ বিষয়ে উর্ধত্বন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ কাজের রিটেন্ডার দেওয়া হবে অথবা মুল ঠিকাদারকে বলা হয়েছে কাজ করার জন্য। এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া এ কাজে দৃশ্যমান ৬০% করা হলেও ৫০ শতাংশ বিল দেওয়া হয়েছে। তাই রিটেন্ডার হলেও সমস্যা হবে না।