বালিয়াকান্দিতে মাতৃহারা রাশেদের পড়াশোনাসহ সার্বিক দায়িত্ব নিলেন বিএনপি নেতা সুমন

লেখক:
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

মোঃ আমিরুল হক : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নে মাতৃহারা ১৩ বছর বয়সী আবু রাশেদের পড়াশোনাসহ সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুবেল মাহমুদ সুমন। পাশাপাশি রাশেদের অসহায় বাবা দিনমজুর ইয়াসিন শেখের হাতে আর্থিক সহায়তাও তুলে দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর মাতুব্বরের মোড় এলাকায় এ সহায়তা প্রদান ও দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আবু রাশেদ ওই এলাকার দিনমজুর ইয়াসিন শেখ ও প্রয়াত জোসনা বেগমের বড় ছেলে। সে বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশেদের মা জোসনা বেগম মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জোসনা বেগমের মৃত্যুতে তিন সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ইয়াসিন শেখ। তাঁর তিন সন্তান হলো আবু রাশেদ (১৩), রিশাদ (৮) ও রিহান (৩)।
শনিবার (২৯ আগষ্ট) বিকেলে রুবেল মাহমুদ সুমন রাশেদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি স্ত্রী হারানো দিনমজুর ইয়াসিন শেখের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি।
ইয়াসিন শেখ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগম ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। স্ত্রীকে হারিয়ে তিন অবুঝ সন্তানকে নিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার বড় ছেলে আবু রাশেদ বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আমার অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে রুবেল মাহমুদ সুমন আর্থিক সহযোগিতা করেছেন এবং রাশেদের পড়াশোনাসহ সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর এই আশ্বাসে আমি কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মমতাজ আক্তার তানিয়া, বহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বিশ্বাস (মঞ্জু), হাসান আলী, আহাদ শেখ, সাদ্দাম হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রুবেল মাহমুদ সুমন বলেন, “রাশেদের মায়ের মৃত্যুতে পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তিনটি ছোট সন্তানকে নিয়ে তাদের বাবার পক্ষে সংসার চালানোর পাশাপাশি রাশেদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে রাশেদের পড়াশোনাসহ সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার চেষ্টা করব।”